অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি-অবহেলা: পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ২৪ জন আলিমের

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৬

অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি-অবহেলা: পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ২৪ জন আলিমের

Manual6 Ad Code

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখন।


নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
অধ্যক্ষের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্ব অবহেলায় এইচএসসি ও সমমান আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ২৪ জন আলিম পরীক্ষার্থী।

 

আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমান আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা ২৪ জন আলিম পরীক্ষার্থীর। কিন্তু নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, চরম ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিবেন তিনি।

 

জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আলিম বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৪ জন শিক্ষার্থী ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে অবস্থিত হযরত শাহজালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অধীনে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বেতন বাবদ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করেন মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। কিন্তু ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

 

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে হযরত শাহজালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার প্রচলিত বিধি উপেক্ষা করে এবং প্রতিষ্ঠানটির পাওনা পরিশোধ না করেই ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনকে সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয়। তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা আরও বেড়েছে।

 

এ বিষয়ে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হযরত শাহজালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

 

পত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধ না করে ২৪ জন আলিম পরীক্ষার্থীকে অন্য মাদ্রাসায় স্থানান্তর করায় অনিয়ম সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

Manual3 Ad Code

 

এদিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রেরিত আলিম রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বেতন, ফি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্ড গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে সৃষ্ট কোনো জটিলতার দায়ভার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

 

অভিযোগকারীরা জানান, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এবং বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখন বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেননি। ফলে আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া আলিম পরীক্ষায় ২৪ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

Manual2 Ad Code

 

এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, মাদ্রাসা বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

হযরত শাহজালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আল-আমিন জানান, বকেয়া বিল আদায়ের জন্য উক্ত মাদ্রাসার অফিস সহকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Manual7 Ad Code

 

বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি আল্লাহই ভালো জানেন। আমরা বিষয়টি সমাধান করে তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে চেষ্টা করছি।’

 

অভিযুক্ত মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুনুর রহমান লেখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন ও ফি বাবদ টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আজ-কালের মধ্যে হযরত শাহজালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’

 

Manual8 Ad Code

এদিকে অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ২৪ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code