আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৬

আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ

Manual1 Ad Code

downloadসুরমা মেইল নিউজ : সুদীর্ঘ রাজনীতি ও আন্দোলন সংগ্রামের উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহনকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটি  আজ বৃহস্পতিবার পা দিচ্ছে ৬৮ বছরে।

১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের মাধ্যমে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের শেষ হয় ঠিকই, কিন্তু বাঙালি জাতি তাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ইংরেজদের খাঁচা থেকে মুক্তির পরই পরই বাঙালি জাতি আটকা পড়ে পাকিস্তান নামক সাম্প্রদায়িক খাঁচার বেড়াজালে। শুরু হয় পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকচক্রের পক্ষপাতমূলক শাসন, শোষণ ও বঞ্চনা।

ফলে রাজনৈতিক দলের ছায়ায় অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে বাঙালিরা। এভাবেই ঢাকার কেএম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে জন্ম হয় আওয়ামী লীগের। তবে দলটি সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক চেতনার কারনে ‘মুসলিম’ কথাটি বাদ দিয়ে দলের নাম পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে দলটি আওয়ামী লীগ নাম নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

প্রতিষ্ঠাকালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক ও কারাবন্দি অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান দলের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে দলের সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তা আওয়ামী লীগের জন্য বড় আঘাত হয়ে দেখা দেয়। পরে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের দায়িত্ব হাতে নেন। তাঁর নেতৃত্বেই দল নতুন করে সুসংহত হয়। সর্বশেষ ১৯ তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমেও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল পরিচালিত হচ্ছে এবং সৈয়দ আশরাফ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Manual5 Ad Code

প্রতিষ্ঠার ৬৭ বছরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত হতে হয়েছে। দল গঠনের পর থেকে যাবত কাল পর্যন্ত দলটির সব থেকে বড় অর্জন হচ্ছে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন। তাছাড়া ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় ও সরকার গঠন, বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে খ্যাত ৬৬’র ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভসহ গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন অর্জনের সব আন্দোলন ও সংগ্রামে দলটি অবস্থান ছিল প্রথম সারিতে।

Manual5 Ad Code

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করে অসামান্য সাফল্য দেখানোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সরকার মাত্র ৯ মাসের মধ্যে জাতিকে একটি যুগোপযোগী ও আধুনিক সংবিধান উপহার দেয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় বিপদগামী সেনাসদস্যের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে আওয়ামী লীগের উপর বড় ধরনের আঘাত আসে। দলে সৃষ্টি হতে থাকে বিভক্তি। পরে ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের দায়িত্ব হাতে নেন। তাঁর নেতৃত্বেই দল নতুন করে সুসংহত হতে থাকে। এরপর থেকে প্রায় ৩৫ বছর ধরে তাঁর নেতৃত্বেই দলটি গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে ও সফলতা দেখিয়ে আসছে।

Manual8 Ad Code

৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিজয় লাভের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পেছনে এ দলের মুখ্য ভূমিকা ছিল। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাফল্য অর্জনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রতত্ত্ব ধারণাটি সাংবিধানিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দলটির দীর্ঘ পাঁচ যুগেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ চলার পথ ঐতিহ্যবাহী এ দলটির একটুও সহজ ছিল না। বিভিন্ন সময়ের দলটিকে নানামুখী ভাঙন ও ষড়যন্ত্রের কবলেও পড়তে হয়েছে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে নতুন সংকটের মুখে পড়ে দলটি। ওই সময়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রথম সারির অসংখ্য নেতার গ্রেপ্তার এবং একাংশের সংস্কার তৎপরতায় অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম।

তবে এত সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। পরবর্তীতে একইভাবে ২০১৪ সালেও ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের ৬৭বছর পূর্তি উপলক্ষে দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে মধ্যে রয়েছে সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮.৩০ মিনিটে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন এবং বিকাল ২.৩০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় ও দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ আলোচনা করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code