আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে বিএনপির বড় জমায়েত

প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২২

আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে বিএনপির বড় জমায়েত

Manual6 Ad Code

সুরমা মেইল ডেস্ক :
আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ফরিদপুরে বিভাগীয় সমাবেশে বড় জমায়েত করেছে বিএনপি। শনিবার ফরিদপুরের কোমরপুরের আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউট মাঠ বিএনপির নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এদিন সকাল থেকেই ফরিদপুর নগরী ও জেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যান। প্রতিবারের মতো এবারও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মানে দুটি চেয়ার খালি রেখে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

এদিকে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৩৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘট ডাকাসহ বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সমাবেশের দুদিন আগেও অনেককে আসতে দেখা গেছে। সেখানেই তারা উৎসবমুখর পরিবেশে খাওয়া-দাওয়া ও খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন। সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। এছাড়া সমাবেশে ইন্টারনেট সেবারও ধীরগতি পাওয়া যায়। মাগুরা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে গণসমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে ফিরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

গতকাল বেলা ১১টায় জেলার কোমরপুরের আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে সমাবেশ শুরু হয়। রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে সমাবেশস্থলের দূরত্ব আনুমানিক দুই কিলোমিটার। পুরো রাস্তাজুড়ে ছিল ফরিদপুর মহানগর ও জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের হাতে প্লে কার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও ধানের শীষ দেখা যায়। এ সময় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

 

গত শুক্রবার ও গতকাল গণপরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় আগে থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছেন হাজারো নেতাকর্মী। সমাবেশের দুদিন আগে থেকেই মাঠে অবস্থান নেন অনেকে।

 

খুলনা, রংপুর ও বরিশালের সমাবেশের মতো ফরিদপুর সমাবেশেও চিড়া, মুড়ি, চাল, ডালসহ মাঠে পৌঁছান তারা। ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এই পাঁচটি জেলার বিভিন্ন থানা থেকে নানান বাধা উপেক্ষা করে আসেন এসব মানুষ।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের অধ্যুষিত এলাকায় বিভাগীয় সমাবেশে বড় জমায়েতের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে দলটি।

 

এদিকে গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৩৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘট ডাকাসহ বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিসিও। এতে অন্যান্য জেলার সঙ্গে পুরোপুর বিচ্ছিন্ন হয়েছে এ জেলার বাস চলাচল।

Manual4 Ad Code

 

হঠাৎ করেই এমন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও রোগীরা। অন্যত্র যেতে তাদের রিকশা-অটোভ্যানের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। তবে গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ ভাড়া। এরপরও এসব ছোট যানবাহন সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না।

 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবিতে তাদের এ পরিবহন ধর্মঘট। তবে ধর্মঘটের বিষয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, গণসমাবেশকে সামনে রেখে সরকার ও প্রশাসনের ইন্ধনে এই বাস ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

 

Manual8 Ad Code

ফরিদপুর বিভাগীয় সমাবেশের ২ থেকে ৩ দিন আগেই পাঁচটি জেলার হাজারো নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে তারা এই পথ অবলম্বন করেন। অনেকেই বাড়ি থেকে চিড়া মুড়ি কলা নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। মাঠের মধ্যে তাঁবু টাঙিয়ে চলে আড্ডা ও স্লোগান। মধ্যরাতে ওই তাঁবুর নিচেই ঘুমিয়ে রাতযাপন করেন হাজারো নেতাকর্মী। অনেকে চাদর, কাঁথা ও বিছানা নিয়ে রাত কাটান। এছাড়া স্থানীয় লোকজনের বাড়ির উঠান-বারান্দাতেও রাত কাটান সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের সঙ্গে থাকেন। মাঠের পাশেই চলে রান্না। সেখানেই খাওয়া-দাওয়া করেন। এর আগে ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশেও একই চিত্র দেখা গেছে।

 

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে জেলায় ইন্টারনেট সেবা ধীরগতি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্কেও ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। গ্রাহকরা জানান, গতকাল সকাল ৯টার পর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইলে ইন্টারনেট ধীরগতিতে চলছে।

 

বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকেও একই অভিযোগ করেছেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। এতে করে সবচেয়ে বেশি সমস্যার পড়েছেন এই স্থানে খবর সংগ্রহে আসা সাংবাদিকরা।

 

ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ সাহা জানান, তিনি সকাল থেকেই মোবাইলে ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট পাচ্ছেন না। তবে বাসায় ওয়াইফাই ব্যবহার করে ইন্টারনেট পাচ্ছেন। সেটাও খুব ধীর গতি। নগরীর আলিপুর এলাকার বাসিন্দা মিতু সুলতানা বলেন, সকালে বাসায় ওয়াইফাই ব্যবহার করে ইন্টারনেট পেলেও বাসা থেকে বের হয়ে মোবাইলে ডাটায় আর ইন্টারনেট পাননি। এছাড়া কারো সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে গেলে একাধিকবার চেষ্টার পর কথা বলা যাচ্ছে।

 

এদিকে মাগুরা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে গণসমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে ফিরে গেছে। পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেলের বহরটি গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শ্রীপুর উপজেলা ওয়াবদা বাজার এলাকায় বাধার মুখে পড়ে বলে মাগুরা সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক কতুবুদ্দিন কুতুব জানান। তিনি জানান, এ সময় পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের বাধা দেয়। পরে তারা ফিরে আসে। তারা সেখান থেকে ফিরে গড়াই ও মধমুতি নদীর শ্রীপুরের গোয়ালদহ ও মহম্মদপুরের বাবুখালী মাঝিবাড়ি ঘাট পার হয়ে বিকল্প পথে ফরিদপুরে সমাবেশ স্থলের দিকে রওনা হন।

 

এ বিষয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার মসিউদ্দোলা রেজা বলেন, ‘হেলমেট বিহীন অবস্থায় এক একটি মোটরসাইকেলে ২-৩ জন মানুষ বহন করলে পুলিশ নিয়ম অনুয়ায়ী তাদের বাধা দেবে এটাই স্বাভাবিক। পুলিশ উদ্দেশ্য মূলকভাবে কাউকেই হয়রানি করছে না।’

 

Manual6 Ad Code

জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিভাগীয় (দলের সাংগঠনিক বিভাগ) পর্যায়ে সমাবেশ করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ সম্পন্ন করেছে দলটি।

 

এরই অংশ হিসেবে ১৯ নভেম্বর সিলেটে, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় এবং ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে গণসমাবেশ করবে দলটি। সবশেষ ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

Manual4 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code