উদ্ধার ৩ কিশোরী: বান্দরবান জেলা গোয়েন্দা শাখার তুহেল প্রশংসার দাবীদার

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৬

উদ্ধার ৩ কিশোরী: বান্দরবান জেলা গোয়েন্দা শাখার তুহেল প্রশংসার দাবীদার

Manual1 Ad Code

13233381_1360419730651561_3

সুরমা মেইল নিউজ : নিজেরা বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে পরিবারের পাশাপাশি পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীকে ফেলেছিল বেকায়দায়। হন্য হয়ে খোঁজছিলো অপহৃতাদের এবং অপহরণকারী চক্রকে পুলিশ।

উপর থেকে জেলার এসপির উপরে আসছিলো বিভিন্ন রকম চাপ। পাঁচদিন নাঠকীয়তার পর অবশেষে জেলা গোয়েন্দা শাখার কম্পিউটার অপারেটর কনষ্টেবল তুহেল চৌধুরীর পাতানো ফাদেঁই পরিসমাপ্তি ঘটলো ৩ কিশোরী অপরহণ নাটকের। 

যে ভাবে চলছিল ৩ কিশোরী অপহরণ নাঠকীয়তা:-

গত ১৪এপ্রিল ১৬ইং তারিখ পরিবারের সবার নজর এড়িয়ে লক্ষাধিক টাকা নিয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে মিতু আক্তার সীমা (১৪), লিজা আক্তার (১৪), আরোহী আক্তার(১৩), নামের তিন কিশোরী। অবস্থান করে কক্সবাজারে তৎক্ষণে ছড়িয়ে পড়ে তিন কিশোরী অপহরণ হয়েছে এই খবর।

থানায় জিডি করেন কিশোরীদের অভিবাবক জিডি নং ইপিজেড চট্টগ্রাম থানার জিডি নং-৮১৬, তারিখ-১৬/০৫/২০১৬ইং ও জেলা গোয়েন্দা শাখা-বান্দরবানের জিডি নং-১০৩, তারিখ-১/০৫/২০১৬ইং।

Manual8 Ad Code

এরপর শুরু তিন কিশোরী উদ্ধার অভিযান- তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে তিনি কিশোরী কক্সবাজার ছেড়ে বান্দরবন চলে গেছে। শুর হয় বান্দরবন ডিবি পুলিশের অভিযান। বান্দরবন আসার পর তিন কিশোরী তাদের দুই ছেলে বন্ধসহ হোটেল নাইট হেভেন ও হিল কুইন এ রাত্রি যাপন করে। পুলিশের সদর সার্কেল রাশেদুল ইসলাম এর উপর বিষয়টি তদন্তের জন্য দিলে তিনি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দেন। পরে ডিবিতে কম্পিউটার অপারেটর তুহেল চৌধুরীকে বিষয়টির একটু অনুসন্ধান করতে বলেন। অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন বান্দরবন এলাকায় তিনটি মেয়ে রাস্থায় মুখ লোকিয়ে চলাফেরা করিতেছে তাদের পিছনে সোর্স নিয়োগ করা হয়। কিন্তু কোন কিছুতেই কোন কিছু হচ্ছিলনা এগিয়ে এই তিন মেয়েকে অপহরণ করে আটক করা হয়ে বলে তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে বারবার ফোন আসতে থাকে। কিন্তু পুলিশ কিংবা আইশৃংখলা বাহিনীর কারো ফোনই রিসিভ না করায় আবার তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের অবস্থান জানাও কঠিন ছিল।

Manual5 Ad Code

অপরদিকে মেয়ের অবিভাবকরা জানায় একটি ঘরের ভিতর তালাবদ্ধ করে চোখ-মুখ বেধে নির্যাতন করা হচ্ছে তাদের মেয়েদের। পরে তুহেল চৌধুরীর প্লান অনুযায়ী সদর সার্কেলের তত্বাবধানে ডিবির টিম তাহাদেরকে নীলাচল উটন্তির মোড় থেকে উদ্বার করে।

বান্দরবান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নিজের মতামত ব্যক্ত করে বলেন, তিনটি কিশোরী মেয়েকে উদ্ধার করে তনু’র পরিনতি ঠেকালো বান্দরবান পুলিশ। এরা তিনজন বান্ধবী এবং ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। এদের মায়েরা সবাই কর্মজীবি। বাবা মায়ের অনুপস্থিতিতে গত ১৬ মে বাসা থেকে টাকা নিয়ে (একজন ৬০ হাজার, আর দু’জন ২ হাজার করে) কক্সবাজার চলে যায়। সেখানে গিয়ে হোটেলে উঠে, তারপর পর্যটক হিসেবে সমূদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন স্থানে ঘূরতে থাকে।

Manual2 Ad Code

এদিকে কেবল শৈশব পার করা মেয়েদের না পেয়ে তাদের বাবা মা ঐদিনই সিএমপি’র ইপিজেড থানায় জিডি (নং-৮১৬, তারিখ: ১৬/০৫/২০১৬ইং) করেন। অত:পর পুলিশও তাদেরকে খোঁজতে থাকে।

অবশেষে ১৯ মে বান্দরবানের পুলিশ সুপারের বিশেষ তত্বাবধানে কয়েকটি স্থানে অডিযান চালিয়ে বান্দরবানের দু’জন স্থানীয় বখাটের কবল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে বান্দরবান পুলিশ।

Manual7 Ad Code

এদিকে পাগলের মতো সন্তানদের খোঁজতে থাকা বাবাদের হাতে বুধবার রাতেই ওই কিশোরীদের তাদের অভিবাবকদের কাছে তুলে দেয় বান্দরবান জেলা পুলিশ। আর একটু দেরী হলেই তাদেরকেও তনু’র মতো ভাগ্য বরণ করতে হতো। দেশের সকল নাগরিককে তাদের শিশু/কিশোর সন্তানদেরকে সবসময় আদর, শাসন ও পর্যবেক্ষণ করা উচিত। বান্দরবন পুলিশ সুপার মেয়েদের উদ্ধারের বিষয়ে ডিবি পুলিশ তুহেল আহমদ চৌধুরী’কে প্রসংশিত করে তার সাহসী প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code