এর পর কে হচ্ছেন গ্রেফতার?

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৬

এর পর কে হচ্ছেন গ্রেফতার?

Manual7 Ad Code
download
সুরমা মেইল নিউজ : মোসাদ বিতর্কে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। এর পরে কে গ্রেফতার হচ্ছেন এবং আসলাম চৌধুরী গোয়েন্দা হেফাজতে কী তথ্য দেন, সেটার দিকেই এখন সবার চোখ গেঁথে আছে।
মোসাদ কর্মকর্তার সঙ্গে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পাশাপাশি আগ্রায়ও একাধিক বৈঠক করেছিলেন আসলাম চৌধুরী। ওই বৈঠকে নামের শেষে ‘চৌধুরী’ পদবিযুক্ত চট্টগ্রামের একজন সাংবাদিকসহ খুলনায় মোসাদের এজেন্ট শিপান কুমার বসুও অংশ নেন। এই মুহূর্তে এটা অনেক দামি প্রশ্ন- আসলামের পর গোয়েন্দা জালে কে ধরা পড়ছেন? শিপান কুমার বসু নাকি ঢাকায় কর্মরত চট্টগ্রামের সেই সাংবাদিক নাকি বিএনপির মধ্যম সারির একাধিক নেতা? অথবা ঘটনার মোড় কি আইএসের দিকে ঘুরে যাবে?
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেনদি এন সাফাদি ভারত সফর করেন। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেন সাফাদি। বৈঠকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে গ্রুপ ছবি তোলেন সবাই। ওই ছবিতে আসলাম চৌধুরীও রয়েছেন।
গোয়েন্দারা মনে করছেন- সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ছাড়াও বাংলাদেশে যেকোনো হত্যাকাণ্ডের পর ওয়েবসাইটে আইএসর দায় স্বীকারের নেপথ্যে আসলাম চৌধুরীর হাত থাকতে পারে। কারণ মোসাদের হয়েই কাজ করে সাইটের মালিক রিতা কাৎজ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-উত্তর) শেখ নাজমুল আলম মিডিয়াকে জানিয়েছেন, আসলাম চৌধুরীকে আজ সোমবার আদালতে তোলা হবে। তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বাইরে অন্য কোনও রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সরকার উৎখাতের অপরাধ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারও এমন বলছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশে যেকোনও হত্যাকাণ্ডের পর কথিত জিহাদিদের প্রচারণামূলক ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্সে’ তা প্রকাশ নিয়েও এখন সন্দেহ করা হচ্ছে বিএনপির এই নেতাকে। এর নেপথ্যে তার হাত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ। এবিষয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রবিবার দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত দু’মাস ধরে বলে আসছেন এই দায় স্বীকারের পেছনে দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে। কিন্তু আপনারা (সাংবাদিক) কেউ তা বিশ্বাস করেন না। আপনাদের মধ্যে অনেকেই এর এভিডেন্স দেখতে চেয়েছেন। এই দায় স্বীকারের পেছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্র আছে।
আইএসের সেই ওয়েবসাইটের কর্ণধার রিতা কাৎজ একজন ইহুদি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও ইসলাইলের সঙ্গে একত্র হয়েই গোয়েন্দাগিরি করেন। সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদি সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। তাকে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের চর বলা হয়। তার আছে সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এন্টাইটিস (এসআইটিই)’ নামের একটি ওয়েবসাইট। এটি ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ট্যাগ এবং গোপন বার্তা ও ভিডিও প্রচার করে আলোচিত সাইটটি। মোসাদের সঙ্গে আসলামের এমন বৈঠক ও ছবি দেখে তাই গোয়েন্দাদের সন্দেহ,বাংলাদেশে হত্যার পর সাইটে জঙ্গি সংগঠনের নামে যে দায় স্বীকার করে তার নেপথ্যে আসলামের হাত থাকতে পারে।
গোয়েন্দাদের দাবি, মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের খবর আসার পর থেকে বিএনপির এই নেতা নজরদারিতে ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার পর তিনি গা ঢাকা দেন। তবে তার গতিবিধি সবসময় গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল। মোসাদের এজেন্ট (লিকুদ নেতা) সঙ্গে বৈঠকের খবর প্রকাশ হওয়াকে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছে প্রশাসন। তার ওই বৈঠকের ছবি গত ৭ মে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।এরপর তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোসাদ কাণ্ডের দায়ে গ্রেফতার হওয়া আসলাম চৌধুরীর জন্য নতুন চাপে পড়বে বিএনপি। তারা বলছেন, রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা দলটিকে এখন নতুন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পড়তে হচ্ছে নানামুখী চাপে।তাই আসলাম চৌধুরীর গ্রেফতারের পর কে গ্রেফতার হচ্ছেন, সেটা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে বিএনপি বিষয়টিকে কিভাবে হ্যান্ডেল করে, সেটাই।
সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code