কানাইঘাটে ইয়াবা বিক্রির টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

কানাইঘাটে ইয়াবা বিক্রির টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

Manual3 Ad Code

হত্যাকারী সাকিল ও সুমন। লালবৃত্তে নিহত সাইফুল ইসলাম। ফাইল ছবি


কানাইঘাট প্রতিনিধি :
ইয়াবা বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সিলেটের কানাইঘাটে খুটিতে বেঁধে সাইফুল ইসলামকে (১৯) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

 

Manual5 Ad Code

রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের রাতাছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ছয়ফুল হত্যার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

 

নিহত সাইফুল ইসলাম (২০) ওই গ্রামের ছলু মিয়ার ছেলে।

 

এদিকে ছয়ফুল হত্যার পরদিন সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে তার স্বজন ও সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা হত্যাকারী সাকিল আহমদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। হত্যাকারী সাকিল আহমদের পিতা আব্দুল হান্নান হানাইকে আটক করে থানা পুলিশে দিয়েছেন তারা।

 

Manual6 Ad Code

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে চোরাইপথে আনা ইয়াবা বিক্রি ২ লক্ষ টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নির্মম এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

Manual3 Ad Code

 

স্থানীয়রা জানান, রাতাছড়া গ্রামের ছয়ফুল ইসলাম, একই গ্রামের সাকিল আহমদ ও তাদের সহযোগী সুমন আহমদ একই সাথে দীর্ঘদিন থেকে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাইপণ্য দেশে এনে বিক্রি করত। সম্প্রতি ইয়াবা বিক্রির ২ লক্ষ টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ছয়ফুল ইসলামের সাথে সাকিল আহমদ ও সুমন আহমদের বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে রোববার সন্ধ্যার দিকে ছয়ফুলকে বাড়ির সামনে থেকে সাকিল আহমদ ও সুমন আহমদ ধরে এনে সাকিলের বাড়ির বারান্দার একটি খুঁটিতে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। ওই সময় টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সাকিল আহমদ ও তার সহযোগী সুমন আহমদ ধারালো দা দিয়ে ছয়ফুলের মাথায় উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ছয়ফুলকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছয়ফুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন।

 

Manual7 Ad Code

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, ছয়ফুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

 

হত্যাকারী সাকিল আহমদের পিতাকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দিয়েছেন, তাকে হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, কাড়াবাল্লা ও রাতাছড়াসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারীরা বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব চিহ্নিত চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোন ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ নিয়ে হত্যাকান্ড সহ প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে থাকে।

 

(সুরমামেইল/এমআর)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code