কাম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ক: শীতে ধুলা, বর্ষায় জল-কাদা ভোগান্তি

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৭

কাম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ক: শীতে ধুলা, বর্ষায় জল-কাদা ভোগান্তি

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিনিধি :: সাত বছর ধরে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের এই অবস্থা। আড়াই মাস আগে এ সড়কের সংস্কার শুরু হলেও তা ধীরগতির বলে স্থানীয় লোকজন মন্তব্য করেছেন। ফলে নির্ধারিত ৩৪ মাসে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Manual5 Ad Code

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের অধিকাংশ জায়গায় পিচঢালাই নেই। বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় সড়কটি এখন যেন একটি কাঁচা মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সড়কের বড়শালা, ধোপাগুল, ছালিয়া, সালুটিকর, মিত্রিমহল, খাগাইল, বর্ণি, তেলিখাল, কোম্পানীগঞ্জ সদর, টুকেরবাজার, পারুয়া ও ভোলাগঞ্জ অংশের অবস্থা বেশি খারাপ। এসব স্থানে গর্তে যানবাহন পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

আবদুর রশিদ নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বলেন, দ্বিগুণ অথবা তিন গুণ টাকা না পেলে তাঁরা এ সড়কে যাত্রী আনা-নেওয়া করেন না। কারণ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হলে অটোরিকশার ক্ষতি হয়। শীতের মৌসুমে সড়কজুড়ে কেবল ধুলোর ওড়াউড়ি। কিছুই দেখা যায় না। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রাক, বাস ও অটোরিকশা। ধুলার যন্ত্রণায় এসব যানবাহনের যাত্রীদের নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে চলতে হয়। সড়কের আশপাশের গাছগুলো ধুলায় বিবর্ণ হয়ে গেছে। মাত্রাতিরিক্ত ধুলার কারণে সড়কের আশপাশের বাসাবাড়ির দরজা-জানালাও বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সড়কটি দিয়ে দেশের বড় পাথরকোয়ারি ভোলাগঞ্জে যেতে হয়। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করে। এ ছাড়া উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে এ সড়ক। সাত বছর ধরে সড়কটির এ অবস্থা। শীতে ধুলা, বর্ষায় জল-কাদা। ভোগান্তির কারণে সড়কের আশপাশের দেড় শতাধিক ছোট-বড় দোকান গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর সংস্কার করার নামে ইট আর বালু ফেলা হয়। এতে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঢালারপার গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, সড়ক যখন ভালো ছিল, তখন কোম্পানীগঞ্জ থেকে সিলেটে পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগত। আর এখন তিন ঘণ্টায়ও সিলেটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি এখন সিলেট নগরের ঝেরঝেরিপাড়া এলাকায় থাকেন।

Manual1 Ad Code

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটিকে জাতীয় মহাসড়কে রূপান্তরিত করে ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয় ধরে কাজ শুরু করা হয়েছে। আড়াই মাস আগে কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণকাজের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৩৪ মাস।

Manual3 Ad Code

সড়কের পাশের অনেক বাসিন্দা বলেন, আপাতত সড়কের মাপজোক করার কাজ চলছে। আর কিছু ইট-বালু তুলে ফেলা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান ফাতেমা বলেন, সড়কটি পুনঃনির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ, মানববন্ধন, ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

অথচ এখন পর্যন্ত সড়কের কোনো উন্নয়ন নেই। দুর্ভোগ সহ্য করতে না পেরে গত দুই বছরের ব্যবধানে শতাধিক পরিবার এ এলাকা ছেড়ে জেলা শহর সিলেটের অস্থায়ী বাসিন্দা হয়েছে। খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ আর এখন উপজেলা থেকে অন্য কোথাও যেতে চান না।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code