কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬

কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

Manual3 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এমনকি নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতে তার দল লেবার পার্টিকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

সোমবার (২২ জুন) দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নারসহ কয়েকজন আলোচনায় আছেন।

 

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। জনমত জরিপ বলছে, লেবার পার্টির এমপিদের কাছেও তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। প্রায় এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বার্নহ্যাম। তার ঝুলিতে দীর্ঘকালের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ জন্য তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবেও পরিচিত। সবশেষ গত শুক্রবার তিনি পার্লামেন্টের একটি আসনে জয় পান। এর মাধ্যমে তিনি লেবার পার্টিতে নিজের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ের জন্য তার অন্তত ৮১ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। শুক্রবারের জয়ের মাধ্যমে তিনি পার্লামেন্টে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লি আসনের এমপি ছিলেন তিনি। ওই সময়ে কিনির স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন বার্নহ্যাম।

Manual2 Ad Code

 

এর আগে, আরও দুবার দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিলেন বার্নহ্যাম। এরমধ্যে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন তিনি।

 

২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ওয়েস স্ট্রিটিং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত মে মাসে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ দায়িত্ব পালনের আগে তিন বছর বিরোধী দলে থাকাকালীন ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

 

স্ট্রিটিং ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে, তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের প্রেসিডেন্ট এবং লন্ডনের কাউন্সিলর ছিলেন। বর্তমান তাকে দলের বাকপটু ও বিচক্ষণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এনএইচএসের চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের দীর্ঘ তালিকা কমিয়ে আনাকে তার অন্যতম সাফল্য।

 

দলের মধ্যপন্থি ও ডানপন্থি এমপিদের মধ্যে তার ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তবে দলের ভেতর ‘ডানপন্থি’ ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ সদস্যদের কাছে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে পারে তার।

 

অ্যাঞ্জেলা রায়নার
অ্যাঞ্জেলা রায়নার যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী রাজনীতিবীদ। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। এমনকি কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। রাজনীতিতে তার এ উত্থান অবিশ্বাস্য ঘটনা।

 

কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় ‘ইউনিসন’ ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। এটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তিনি ২০১৫ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অ্যাশটন-আন্ডার-লাইন আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

 

এ সময় তিনি জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময়ে তিনি ছায়া সরকারের আবাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গৃহনির্মাণ বৃদ্ধি ও ভাড়াটেদের অধিকার আমূল সংস্কারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন।

 

Manual1 Ad Code

২০২৫ সালে রায়নার নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে একটি বাড়ি কেনার সময় যথাযথ ট্যাক্স পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠে। এরপরই তিনি পদত্যাগ করেন।

 

অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী
যুক্তরাজ্যের এসব হেভিওয়েট নেতা ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এরমধ্যে সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও রয়েছেন। যদিও তিনি এ সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার জন্য সেই অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।

Manual8 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নামও আলোচনায় আছে। তবে অভিবাসন নীতি নিয়ে তার কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ফলে সাধারণ সদস্যদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক রয়্যাল মেরিন কর্মকর্তা আল কার্নসকেও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code