খাবার ও পানির অভাবে ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

খাবার ও পানির অভাবে ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু

Manual6 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজন মারা যান। মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

 

গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

Manual5 Ad Code

যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর কোনো খাবার-পানি ছাড়াই যাত্রা অব্যাহত রাখেন তারা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে।

 

টানা নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম বলেন, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর নৌকাটি আর সামনে এগোতে পারেনি। এ সময় দালালের লোকজন বা অন্য কোনো সংস্থা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।

Manual2 Ad Code

 

আব্দুল করিম বলেন, নৌকায় খাবার ও পানি না থাকায় চরম সংকটের মধ্যে পড়েন তারা। খাবার ও পানির অভাবে নয় বাংলাদেশি মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে জীবিতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে বলেও জানান তিনি।

 

Manual1 Ad Code

মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করিম দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে বলেন, তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা খাবারের ব্যবস্থাও করছেন। তারা দেশে ফিরতে চান।

 

এ বিষয়ে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বাদরানের সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

 

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি বাংলাদেশিদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহতরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual4 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code