চিকিৎসা অবহেলায় আল হারামাইন হাসপাতালে পিতার মৃত্যুর অভিযোগ ডা. কন্যার

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২৫

চিকিৎসা অবহেলায় আল হারামাইন হাসপাতালে পিতার মৃত্যুর অভিযোগ ডা. কন্যার

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় এক বৃদ্ধে মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তার কন্যা ডা. নুরিয়া জাহান কেয়া।

 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন জেলার ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা ডা. নুরিয়া জাহান কেয়া।

Manual4 Ad Code

 

তিনি বলেন, তার পিতা ৬৯ বছর বয়সী বেদার আহমেদকে ভুল ইনসুলিন ডোজ দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃত্যুর সার্টিফিকেটেও সত্য গোপন করা হয়েছে বলেও জানান।

 

Manual3 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে ওই চিকিৎসক জানান, তার পিতা পন্টাইন ইনফার্কশন থেকে সুস্থতার দিকে যাচ্ছিলেন। নর্থ ইস্ট ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল অবস্থায় ছিলেন। মাউন্ট এডোরা থেকে বাসায় যাওয়ার পরদিন বমি হয় এবং কাশি বেড়ে যায়। তাই আল হারামাইন হাসপাতালে ডা. রাহাত আমিন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়।

Manual5 Ad Code

 

ডা. কেয়া অভিযোগ করে বলেন, আল হারামাইনে ভর্তির সময় তার বাবার খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক ছিল। সে সময় এনজি করা লাগেনি। ১৩ নভেম্বর সকালে এফবিএস ছিল ৭.১। তিনি তার বোনকে বলেছিলেন ওইদিন সকালে সিস্টার কে বলতে যাতে তার বাবাকে ইনসুলিন না দেন। কিন্তু এফবিএস ৭.১ হওয়া পরও নার্স কাউকে না জিজ্ঞেস করেই ১৬ ইউনিট ইনসুলিন দিয়ে দেয়। কোনো ডাক্তারকে না জানিয়ে ও রোগীর অবস্থার মূল্যায়ন না করেই ইনসুলিন দেয়ার পর এটাই নিয়ম বলে জানায় ওই নার্স।

 

ইনসুলিন দেওয়ার পর আরবিএস নেমে যায় ৩.১-এ। এরপর নার্স চেক করলেও বিষয়টি আমাদেরকে অবগত করা হয়নি কিংবা কোনো ডাক্তারকেও জানানো হয়েছে কিনা আমরা জানি না। তবে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তার বোন একজন মেডিকেল অফিসারকে বিষয়টি জানালে তখন আরবিএস চেক করে ডেক্সট্রোজ দেওয়া হয়। পরদিন ভোর ৪টায় হ্যালোপেরিডল দেওয়া হয় কোনো মনিটরিং ছাড়াই। শেষ মুহূর্তে ভুল পদ্ধতিতে সাকশন করা হয়। পালস্  অক্সিমিটার ০২ চেক না করেই এবং অক্সিজেন না দিয়ে এমনকি সেচুরেশন না দেখে, এয়ারওয়ে সুরক্ষিত না করেই নার্স সাকশন করে। সাথে একজন মেডিকেল অফিসার থাকা সত্ত্বেও তিনি ০২ লেভেল দেখার দরকার মনে করেননি। ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সাইনোসিস দেখা দেয়। তখন নার্স দৌড়ে গিয়ে পালস্ অক্সিমিটার নিয়ে আসে। কিন্তু এর আগেই আমার পিতা মারা যান। মৃত্যুর সার্টিফিকেটে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উল্লেখ নেই। আরবিএস ৩.১ থাকা সত্ত্বেও ডেথ সার্টিফিকেটে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উল্লেখ করা হয়নি। এটি সত্য গোপন করার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন ডা. কেয়া।

 

সংবাদ সম্মেলনে ডা. নুরিয়া জাহান কেয়া বলেন, নিজে একজন চিকিৎসক হয়েও হেরে গেলাম এই অবহেলার কাছে। তিনি হাসপাতাল থেকে তার পিতার চিকিৎসার ফাইলের কপি আনতে দরখাস্ত করেছেন বলে জানান। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ডিজিএইচএস ও বিএমডিসি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

 

একই সঙ্গে তিনি আল হারামাইন হাসপাতালে ডা. রাহাত আমিন চৌধুরী ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

 

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনের নিহত বেদার আহমদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code