জাদুকাটার বালি-পাথর খেকো রতন ঢাকায় গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৫

জাদুকাটার বালি-পাথর খেকো রতন ঢাকায় গ্রেফতার

Manual4 Ad Code

গ্রুপ ছবিতে সাবেক এমপির সাথে (লাল বুক্ত চিহ্নিত ) গ্রেফতার রতন মিয়া।


নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ :
লন্ডনে পালিয়ে থাকা সাবেক এমপি রণজিত চন্দ্র সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সীমান্তনদী জাদুকাটা বালি মহাল-১ এর সাবেক ইজারাদার রতন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার ডিএমপির শাহআলী থানা পুলিশ সংক্ষুদ্ধ জনতার রোশানল থেকে গ্রেফতার করে তাকে পুলিশী হেফাজতে নেয়।

 

গ্রেফতার রতন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ননাই (পুর্বে থাকা সাদেরখলা) গ্রামের তাহের মিয়ার ছেলে।

Manual3 Ad Code

 

বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় ডিএমপি মিরপুর জোনের শাহআলী থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম আজম তাকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শাহআলী এলাকার স্থানীয় সংক্ষুদ্ধ জনতা রতনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

Manual5 Ad Code

ওসি আরও জানান, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৫ আগষ্ট পরবর্তী একটি মামলায় এজাহারনামীয় আসামি রতন।

 

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম জানান, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি টিম বুধবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে, শাহআলী থানা থেকে রতনকে সুনামগঞ্জ নিয়ে আসার পর আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের খনিজ বালি-পাথর সমৃদ্ধ জাদুকাটা-১ বালি মহাল সোহাগ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারি রতন মিয়া ও উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের মৃত সাদেক আলী তালুকদারের ছেলে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ, জেলা পরিষদের অব্যাহতি প্রাপ্ত সদস্য মুজিবুর রহমান তালুকদার জাদুকাটা বালি মহাল-২ যৌথভাবে সিন্ডিক্যাড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৪৩১ বাংলা সনের জন্য ইজারাপ্রাপ্ত হন।

 

Manual7 Ad Code

জাদুকাটা নদীর দুটি বালি মহাল ইজারার পেছনে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের শাসনামলে জেলা, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি, মেয়র, ঠিকাদার ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সিন্ডিক্যাট তৈরি করে সরকারকে ভ্যাট, আয়কর, সরকারি মূল্য সহ প্রায় ৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রতন-মুজিবুরের নামে ইজারা বাগিয়ে নেন।

 

ইজারা নিতে আগাম একাধিক বৈঠকও করেন তারা। ওই সময়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০টি করে শিডিউল ক্রয় করা হয়। কিন্তু জমা দেওয়া হয় দুটি করে। দুটির দরপত্র মূল্যও প্রায় কাছাকাছি। ফলে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান রিয়ানের মুজিবুর ও সোহাগ এন্টারপ্রাইজের রতনকে বালুমহালের সর্বোচ্চ দরদাতা মনোনীত করা হয় কৌশলে।

 

এরপর রতন-মজিবুর আওয়ামী নেতাদের প্রভাবে প্রশাসন, পুলিশকে বগল দাবায় রেখে জাদুকাটা নদীতে শতাধিক ড্রেজার মেশিনে বালি পাথর লুপাটের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে নদীর পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস করে, নদীর পাড় কেটে কোয়ারি তৈরি করিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ বালি পাথর হরিলুট করায় সিন্ডিক্যাট প্রথার মাধ্যমে। গেল কয়েক বছর জাদুকাটার পাথর মহাল ইজারা বন্ধ থাকার সুবাধে ওই সিন্ডিকেটের আরেক মূল হোতা যুক্তরাজ্যে পলাতক সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য রণজিত চন্দ্র সরকারের ঘনিষ্ঠ সহচর তাহিরপুরের জাদুকাটা নদী তীরবর্তী ছড়ার পাড় গ্রামের মৃত মহর আলীর ছেলে আ.লীগ নেতা জাদুকাটা বোল্ডার পাথর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোতালেব ওরফে ‘পাথ্থর মোতালেবকে ম্যানেজ মাষ্টার হিসাবে গোপন সমঝোতায় অবৈধভাবে সড়ক ও নৌপথে পাথর বোল্ডার বিক্রির আড়ালে কয়েক’শ কোটি টাকা রয়্যালিটি আদায় করানো হয়।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাদুকাটা নদীর বালিমহাল-১, ২ ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর ওই বালিমহাল দুটির ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। গেল কয়েক বছর জাদুকাটা নদীতে পৃথকভাবে খনিজ পাথরমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। আর এ সুযোগ কাজে লাগান আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, একসময় টং-দোকানে পান বিক্রি করে সংসার চালাতেন মোতালেব। পরে বালি-পাথরের অবৈধ বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে এখন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মালিক। কথিত পাথর সমিতির সভাপতি রণজিত চন্দ্র সরকারের ছায়াতলে থেকে মোতালেব স্থানীয় বালি-পাথর কারবারিদের ব্যবহার করে জাদুকাটা নদীর উৎসমুখ ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে পাথর (বোল্ডার) আনতে থাকেন।

 

একই সঙ্গে জাদুকাটা নদীর চর, তীর, আশপাশের এলাকা, সরকারি খাস বালি ভূমি থেকে শতাধিক ড্রেজার ও সেভ মেশিনে কোয়ারি করে উত্তোলন করতে থাকেন খনিজ সিঙ্গেল (নুরি পাথর), (বোল্ডার) পাথর ও বালি। বিভিন্ন স্থানে স্তুপ করে রাখা অবৈধভাবে সংগৃহীত এসব খনিজবালির বাজারমূল্য সরকারি ভ্যাট-আয়কর ছাড়াই ১০০ থেকে ১১০ কোটি টাকা। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মোতালেব গোপনে সরকারের প্রাং ১১০ কোটি টাকার খনিজ বালি পাথর বিক্রি তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

গ্রেফতার রতনের পারিবারীক সুত্র জানায়, রতন ষড়যন্ত্রের শিকার, তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলেন না।

Manual8 Ad Code

 

বুধবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ্য , জেলা পরিষদের অব্যাহতি প্রাপ্ত সদস্য জাদুকাটা বালি মহাল-২ এর ইজারাদার মুজিবুর রহমান, জাদুকাটা বোল্ডার পাথর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোতালেব ওরফে ‘পাথ্থর মোতালেবের বক্তব্য জানতে একাধিক বার তাদের ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করা হয়।

 

(সুরমামেইল/এইচএসএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code