টেক্সটাইল খাতের টেকসই রূপান্তরে পণ্য বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনে জোর: বস্ত্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৬

টেক্সটাইল খাতের টেকসই রূপান্তরে পণ্য বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনে জোর: বস্ত্রমন্ত্রী

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং পণ্য বৈচিত্র্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

তিনি বলেছেন, সাস্টেইনেবিলিটি এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি শিল্পের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।



শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গ্রান্ড লাউন্সিং ইভেন্ট অব টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual1 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির মতো মূল্যবান সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিল্পে শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি পুনঃব্যবহার, সার্কুলার উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে।

 

তিনি বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও রফতানি এখনও সীমিত কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। স্পোর্টসওয়্যার, ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইলসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যে দ্রুত অগ্রসর হতে না পারলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা কঠিন হবে।

 

ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে গবেষণা, নকশা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী।

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে টেক্সটাইল খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম পুঁজিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাত দেশের শিল্পায়ন ও রফতানি প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনা আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

 

Manual8 Ad Code

বন্ধ শিল্পকারখানা পুনঃব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো যন্ত্রপাতি অপরিবর্তিত রেখে অকার্যকর কারখানায় অর্থ ব্যয় করা হবে না। শিল্পভেদে উপযোগী সমাধানের মাধ্যমে কোথাও শিল্পপার্ক গড়া এবং কোথাও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা লিজের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও শিপবিল্ডিংসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

 

অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্প আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।

 

Manual6 Ad Code

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এনামুল হক খান, প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার আইউব নবী খান, মো. আব্দুল হামিদ এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন।

 

স্বাগত বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুজ্জামান। এছাড়া বক্তব্য দেন ড. মো. হাসিব উদ্দিন ও তারেক আমিন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়ছার।

 

পরে মন্ত্রী টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

 

(সুরমামেইল/এনআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code