সিলেট ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালত গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। ফলে এনবিআরের পক্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট করের অর্থ আদায়ে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না। আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।
মামলার নথি ও এনবিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণের আয়কর নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। এ বিষয়ে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি রিট পিটিশন দায়ের করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সেই রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
পরে এনবিআরের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, ২০১৭ সালে দুটি রিট পিটিশন ফাইল করা হয়। বিষয়টা হচ্ছে এরকম যে, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি এগ্রিমেন্টে পৌঁছায় যে—গ্রামীণ কল্যাণকে গ্রামীণ টেলিকম কিছু আর্থিক সহায়তা দেবে। সেই আর্থিক সহায়তার প্রতিদান হিসেবে গ্রামীণ টেলিকম তার অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে, গ্রামীণ কল্যাণের শেয়ার থেকে অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে ৪২.৫০% প্রফিট গ্রামীণ কল্যাণকে প্রদান করবে। পরবর্তী সময়ে এটা যখন ইনকাম ট্যাক্স অথরিটি তাদের ফাইলটা আন্ডার সেকশন ১২০-তে রিওপেন করে এবং দেখে যে, গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণ যে প্রফিটটা আর্ন করেছে, সেটার ওপর তারা অ্যাট সোর্সে উৎসে কর কর্তন করেনি। যে কারণে এই রিওপেন। পরবর্তী সময়ে এটা রিভিশন ফাইল করে বিফোর দ্য কমিশনার অব ট্যাক্সেস। তার এগেইনস্টে হাইকোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করা হয়।
এনবিআরের দাবি, গ্রামীণ টেলিকম থেকে পাওয়া ওই আয়ের ওপর যথাযথভাবে উৎসে কর কর্তন করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে আয়কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনরায় মূল্যায়ন করে কর দাবি করে। ওই দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের কাছে এবং পরে হাইকোর্টে রিট করে।
এনবিআরের আইনজীবী বলেন, হাইকোর্টের আজকের রায়ের ফলে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত এসেছে এবং আইন অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা আদায় করা যাবে। এ জন্য যথাযথভাবে ডিমান্ড নোটিশ জারি করা হবে।
এর আগে একই কর দাবি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের দেওয়া রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটেছিল। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। পুনরায় শুনানি শেষে এবার রিটের রুল খারিজ করে এনবিআরের দাবির পক্ষে রায় দিলেন হাইকোর্ট।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি