তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুলের মাসিক আয় অর্ধকোটি টাকা!

প্রকাশিত: ২:২৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুলের মাসিক আয় অর্ধকোটি টাকা!

Manual1 Ad Code

ওসি আমিনুল, পুলিশের সোর্স চাঁদা আদায়কারী চোরাকারবারি উজ্জল ও মাদক কারবারি বাবুল।


নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ:
পুলিশের কথিত সোর্স মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাসির বিড়ির ও মাদকের হাট বসানোসহ একের পর এক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ভোক্তভোগীদের থানায় এসে জিডি করার পরামর্শ দিলেন গুণধর ওসি।

 

পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি জাতীয় সমস্যা হিসাবে মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা থাকলেও তাহিরপুরের ওসি, কিছু অসৎ পুলিশ অফিসার আমাদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় শেখ নাসির উদ্দিন বিড়ির হাট বসানোর নামে মাদক কারকারিদের সোর্স হিসাবে ব্যবহার করে মাসোহারা হিসাবে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

 

একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধান ও প্রতিবেদনে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় বিড়ি, ইয়াবা, গাঁজা, নানা ব্রান্ডের মাদক কারবারি, নৌ পথে কয়লা-চুনাপাথর, কসেমেটিকস, খাদ্য সামগ্রী, থান কাপড়, গবাধিপশু চোরাচালান, জাদুকাটাসহ একাধিক সীমান্ত নদীতে ড্রেজার, সেইভ মেশিনে নদীর তীর কেটে কোটি কোটি টাকার খনিজ বালু-পাথর লুটের আড়ালে গোপন সমঝোতায় তাহিরপুর থানার ওসি, কিছু অসৎ পুলিশ অফিসারের ঘুষকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে আসে।

 

প্রতিবেদকের নিকট তাহিরপুর থানার ওসি’সহ কিছু অসৎ পুলিশ অফিসারের ঘুষকান্ডে জড়িত থাকার গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সংরক্ষিত রয়েছে।

 

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সুত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর থানায় যোগদান করেই ওসি আমিনুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত সোর্স মোটরসাইকেল চালক উজ্জলের মাধ্যমে একাধিক মামলার আসামির ভাইয়ের নিকট থেকে একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার, জাদুকাটা নদীতে পাড় কাটা, সেইভ-ড্রেজার মেশিনে বালু-পাথর লুটকারীদের নিকট থেকে আগাম ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন।

 

Manual1 Ad Code

এরপর ওই নদীতে নিয়মিত পরিবেশ ধ্বংসী সেইভ ড্রেজার মেশিনে খনিজ বালু লুটকারিদের নিকট থেকে সোর্স উজ্জল, থানার এসআই পংকজকে দিয়ে দৈনিক কয়েক লাখ টাকা ঘুষ আদায় করাচ্ছেন।

 

ইজারাবিহীন পাটলাই নদী, মাহারাম নদীর উৎসমুখেও গোপন সমঝোতায় সেইভ ড্রেজারে রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ বালু লুট করাচ্ছেন ওসি তার সহযোগি কয়েকজন অসৎ পুলিশ অফিসার।

 

অভিযোগ রয়েছে, তাহিরপুর থানার, তাহিরপুর সদর, বালিজুড়ি, বাদাঘাট, শ্রীপুর’সহ সাতটি বিটে ২৮ থেকে ৩০ জন পেশাদার ভারতীয় বিড়ি কারবারি কাম মাদক কারবারির, অর্ধশতাধিক গবাধিপশু (গরু, মহিষ, ঘোড়া), থান কাপড়, খাদ্য সামগ্রী, মসলা কমমেটিকস চোরাকারবারি নিকট থেকে বিট অফিসার, সোর্স ও ওসির ব্যক্তিগত সোর্স মোটরসাইকেল চালক উজ্জলকে দিয়ে প্রতিমাসে ঘুষ হিসাবে আদায় করাচ্ছেন কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।

 

থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এক অসৎ পুলিশ অফিসার এএসআই মালেক উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের মনার ছেলে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, পুলিশের কথিত সোর্স বাবুলকে নিয়ে দিনভর মোটরসাইকেলে চরে বারেকটিলা, জাদুকাটা নদীর নৌ পথে, মাণিগাঁও, গুাটলা, মানিগাঁও চকবাজার, ছিলাবাজার, মাহারাম, রাজাই, কড়ইগড়া, শিমুল বাগান, ঘাগটিয়া, গড়কাটি, ঘাগড়া, আমবাড়ি, পাতারগাঁও, বাদাঘাট’সহ একাধিক এলাকায় থাকা ভারতীয় বিড়ি, মাদক, কসমমেটিসক, গবাধিপশু, থানকাপড়, মসলা, খাদ্য সামগ্রী চোরাকারবারিদের নিকট থেকে ঘুসের টাকা আদায় করাচ্ছেন ওসির মদদে।

Manual2 Ad Code

 

তাহিরপুরের শ্রীপুর বাজার, বালিযাঘাট বাজার, বড়ছড়া বাজার, লাকমা বাজারে ভারতীর বিড়ি, মাদক কসমেটিকস কারবারি, বড়ছড়া, চারাগাঁও এ দুই শুল্ক ষ্টেশনকে ঘিরে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে নিয়ে আসা কয়লা-চুনাপাথর চোরাকাবারিদের নিকট থেকে থানার ট্যাকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই রিপনকে দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করছেন ওসি।

Manual8 Ad Code

 

পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আসার পর নানা টাল বাহানা করে মাসোহারার বাহিরে থাকা ৩ থেকে চারটি রোক দেখানো অভিযানে মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করে ঘুষের টাকা জায়েজ করছেন ওসি ও তার সহযোগি কয়েকজন অসৎ পুলিশ অফিসার।

Manual3 Ad Code

 

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তাহিরপুরের বাসিন্দা আহমদ আলী রেজা জানান, এলাকার লোকজন এসব মাদক কারবারি, সোর্সদের উৎপাত, মাদকসেবীদের দ্বারা রাস্তাঘাটে, হাট বাজারে, পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষজনকে লাঞ্চিত করা, গণউপদ্রব, চোরাচালান, নদীর পাড় কাটা, রাতভর পিকআপে ইজারাবাহিন মাহারাম, পাটলাই নদীর উৎস মুখ থেকে খনিজ বালু লুট, পিকআপে, নৌকায় পরিবহন, জাদুকাটায় দিনে রাতে সেইভ ড্রেজারে খনিজ বালু-পাথর লুটের বিষয়ে সুনিদিষ্ট ভাবে একের পর এক অভিযোগ করলেও ওসি বিরক্তবোধ করে থানায় এসে জিডি করার পরার্মশ দেন ভোক্তভোগীদের।

 

সোমবার এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাহিরপুর থানার ওসি (পুর্ববর্তী ডিবি পুলিশে কর্মরত থাকা কালীন সময়ে ইয়াবাকান্ডে বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা, একটি টেলিভিশন একজন থানায় এসে আমাকে উপহার দিয়ে গেছেন। কিন্তু তার ভাই আসামি কি-না আমার জানা নেই।

 

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, দেখেন পুলিশের সোর্সই হোক আর মাদক কারবারিই হোক, এলাকার লোকজন সমস্যা মনে করলে থানায় এসে জিডি করতে হবে অন্যথায় পুলিশের কি করার আছে?

 

(সুরমামেইল/এইচএসএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code