সিলেট ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৭
শুভেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: শেষ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের উপ-নির্বাচনে প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্তের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতায় কোমড় বেধেঁ মাঠে নামছেন হেভিওয়েট সতন্ত্র প্রার্থী কুয়েত প্রবাসী কমিউনিটি নেতা বিশিষ্ঠ সমাজসেবক মো. সায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু।
বাকি দু’জন প্রার্থী জাতীয়পার্টির সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট মো. শেখ জাহির আলী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) সমর্থিত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম আমিন এই দুজন প্রার্থী গতকাল সোমবার জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন এবং ১৪ দলীয় প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্তকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানান।
এই দুই উপজেলার (দিরাই-শাল্লা) বাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সুদূর প্রবাস কুয়েতে দীর্ঘ ৩৫ বছরের কর্মজীবনের অবসান ঘটিয়ে মাহবুব হোসেন রেজু গত ২রা মার্চ মাতৃভূমির টানে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং জনপ্রতিনিধিকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান মনে করে তিনি ঐদিন বিকেলে জনগনের সেবা করার মনোভাব নিয়ে অসংখ্য কর্মী ও সমর্থক নিয়ে সুনামগঞ্জ নির্বাচন কমিশনে এসে সতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
রেজু মঙ্গলবার প্রতিক পাওয়ার পর তিনি এই দুই উপজেলার শহর বন্দর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে ভোটারদের কাছে গিয়ে অবহেলিত এই দুই উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠির অবকাঠামো সমস্যা নিয়ে তার মহা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন বলে তার কর্মী সমর্থকদের কাছ থেকে জানা যায়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, এই নির্বাচনে মোট ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে দু’জন তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় নির্বাচন হবে মূলত সরকার দলীয় প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্ত এবং সতন্ত্রপ্রার্থী বিশিষ্ঠ সমাজসেবক মোঃ সায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজুর মধ্যে। ইতিমধ্যে রেজু মিয়া সরাসরি মাঠে না নামলেও তিনি বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে দিরাই-শাল্লা এই দুই উপজেলায় বিশাল কর্মী বাহিনী সৃষ্টি করে জনগনের মাঝে একটা ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে তুলেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, কোন প্রার্থী প্রতিক বরাদ্দ পাওয়ার আগ পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং নির্বাচন আচরণবিধি লংঘনের সামিল মনে করে কোন প্রার্থীই প্রকাশ্যে মাঠে নেমে প্রচার প্রচারনা চালাতে পারছেন না। তবে প্রতিক বরাদ্দ পাওয়ার পরই প্রার্থীরা স্ব স্ব অবস্থান থেকে তাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে উন্নয়নের ফুলঝুড়ি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করে ভোট প্রার্থনা করবেন। এই আসনের উপ নির্বাচনে প্রায় আড়াই লাখ ভোটারের ভাগ্য নির্মাণের জন্য তাদেরকে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এ ব্যাপারে প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ড. জয়া সেনগুপ্তের একজন কর্মী প্রশান্ত সাগর দাস বলেন, প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জীবদ্দশায় গত কয়েকবছরে এই দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি বেচেঁ থাকলে এই হাওরের জনপদ দিরাই শাল্লাকে মডেল উপজেলায় পরিণত করতে পারতেন। তিনি আরো বলেন ঐ নেতার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে তার সুযোগ্য উত্তরসূরী সহধর্মিনী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্ত কে নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে।
এ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের প্রাণের স্পন্দন এখন ড. জয়া সেনগুপ্তই আগামী ৩০ মার্চের উপ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ব্যপারে সতন্ত্র প্রার্থী মো. সায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছরেও এই অবহেলিত জনপদ দিরাই শাল্লায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। তাই এখানকার জনগন পরিবর্তন চাইছে। তিনি বলেন আমার জীবনে চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই আমি সুদীর্ঘ ৩৫ বছর সুদূর প্রবাস কুয়েতে ছিলাম। এখন প্রবাস জীবনের পরিসমাপ্তি টেনে নারির টানে ও এই হাওরের অবহেলিত জনপদের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে দেশে ছুটে এসেছি। আমি বাকি জীবন এই আসনের অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা নিয়ে অবহেলিত,নির্যাতিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে নিজেকে উৎসর্গ করার লক্ষ্যে প্রার্থী হয়েছি এবং আমি আশাবাদি মানুষ আগামী ৩০ মার্চেই আসনের সম্মানিত ভোটারগন ব্যালটের মাধ্যমে আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে মহান জাতীয় সংসদে পাঠাবে।
এ ব্যপারে সরকার দলীয় প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্তের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোসে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার অভিমত জানা যায়নি।
তবে, তার ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত জানান, এই দিরাই শাল্লার মানুষ আমার বাবা (প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত)কে এত ভালবাসতেন তার প্রমান ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ সময় উনাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে মহান জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন। আজ আমার পরিবার এই দুই উপজেলার আপামন জনগনের ভালবাসার কাছে আজীবন ঋৃনি থাকব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরো বলেন বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই আমাদের পরিবারের অভিভাবক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার মা ড. জয়া সেনগুপ্তকে বাবার আসনের উপ নির্বাচনে প্রার্থী করেছেন এবং আগামী ৩০ মার্চ এই অঞ্চলের সম্মানিত ভোটারগন আবারো ব্যালটের মাধ্যমে প্রমান করবেন জনগনের ্রপতিনিধি হিসেবে সুরঞ্জির সেনগুপ্তের পরিবারের সদস্যদের বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, এই আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ঠ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গত ৫ ফেব্রুয়ারী বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরলোক গমন করলে এই আসনটি শূণ্য হয়। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামী ৩০ মার্চ উপ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফশীল ঘোষনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি