দুর্গাপূজা হীনমান্যতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপযুক্ত শিক্ষা

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২২

দুর্গাপূজা হীনমান্যতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপযুক্ত শিক্ষা

সুনির্মল সেন :
আশ্বিন মাস শরতের পূর্ণতা নিয়ে আকাশ-সাদা আকাশে মেঘের ভেলা। নদী তীরের কাঁশফুল আর শিশিরস্নান ঘাসে যখন পায়ে শীতল পরশ- ঠিক তখনই পুজামণ্ডপে ঢাক আর কাঁসা বেঝে উঠে। শঙ্খ আর ঘন্টার মঙ্গল ধ্বনি  দিয়ে পৌরহীত মহাশয় ঘোষণা করেন- শারদীয় দুর্গাপূজার মহোৎসব।

 

মা আসেন সন্তানের প্রতি কৃপা করে প্রতিবছর আসেন মা দুর্গা। মায়ের আবির্ভাব অসুর দলনের জন্যে- আসুরিক শক্তির অবসানর জন্যে। ধার্মিক, সৎ, পরোপকারি, মানবতাবাদি তথা ভক্ত শরনাগতদের মঙ্গলের জন্যে মায়ের আবির্ভাব। মা সকল অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করেন। কিন্তু শুভ শক্তিকে মা রক্ষা করেন।

 

দুর্গাপূজা হচ্ছে সকল হীনমান্যতার বিরুদ্ধে ঐক্যবব্ধ হওয়ার এক উপযুক্ত শিক্ষা। যখনই অসুরকূল অসহায় ভাবে শুভ শক্তিকে পরাভূত করেছিলো, মাতৃজাতি এবং সাধু-পুরুষ, ধার্মিকদের উপর অত্যাচার শুরু করেছিলো, এমনিকি দেবশক্তিকে অগ্রাহ্য করেছিলো, ঠিক তখনই সম্মিলিত দেবতাদের তেজে মা দুর্গার আবির্ভাব।

 

দেবশক্তির সম্মিলিত শক্তি হচ্ছে মা দুর্গা। তিনি সকলের দুর্গতি নাশ করেন। তিনি নারায়নী। মা দুর্গা পরম বৈঞ্ষবী। বামনপরানো মা দুর্গাকে নাম দেয়া হয়েছে কাত্যায়নী। ব্রজগোপীরা একমাস ব্রত করে কাত্যায়নী পূজা করে মা দুর্গার কৃপা লাভ করেন এবং সকল ব্রজগোপীকে আশীর্বাদ করেন যেনো তারা সকলেই কৃষ্ণকে পতি রূপে লাভ করে। এ জন্য রাসবজনীতে ব্রজগোপীরা শ্রীকৃষ্ণের সাথে রাস করার অপূর্ভ সুযোগ লাভ করেন।

 

এই দেবীই ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথির রোহিনী নক্ষত্রে মা যশোদার ঘরে আভিভূত হন। তিনি ছিলেন যোগমায়া। এই যোগমায়াই শ্রীধাশ বৃন্দাবন লীলায় শ্রীকৃষ্ণের সহায়ক শক্তি রূপে লীলা করেন। যোগমায়াই রানরজনীতে শ্রীরামের মধুর লীলাস্থলির ফটক রক্ষা করেন। সুরথরাজা ও সমাধি শ্যৈ সর্বপ্রথম দেবীর মৃময়ী প্রতিমা গড়ে পূজা করেছিলেন।

 

পূজা হচ্ছে ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি ও ভালোবাসা প্রকাশের ব্যবস্থা। এখানে আড়ম্বরতা নয় বরং ভক্তি বিন্ম্র আরাধনাই হচ্ছে আসল। পূজার বিধান সঠিক ভাবে করতে হবে। রাজকীয় পূজা! নির্দিষ্ট তিথিতে, নির্দিষ্ট নিয়মে প্রতিটি বস্তু, পরিচ্ছেদ, উপাচার সঠিক ভাবে না দিলে দেবী রুষ্ঠ হন। কিন্তু আজকাল দেখা যায় পূজার সঠিক নিয়ম অনেক লংঘন করা হয়। বরং বহিরঙ্গ সাসজ্জা, গান-বাজনা আর লোক দেখানো বৈভব নিয়ে ব্যস্ততা।

 

পূজা সঠিক ভাবে না হলে, আরতি যথাযথ ভাবে না হলে, শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠ ভালভাবে উপস্থাপন না হলে পূজার সকল আয়োজন তামসিকতায় পর্থবসিত হয়।

 

আমাদের লক্ষ্য মায়ের পূজা যথাযথ ভাবে হবে। প্রতিমার বর্ন, প্রতিমার কাঠামো, পূজার নিয়ম-কানুন শ্রী শ্রী দুর্গাভক্তি তরঙ্গিনীর বর্ণনা অনুসারে করা উচিত। শাস্ত্র অনুসারে প্রতিটি পূজা ম-পে পূজা হলে অবশ্যই মায়ের পূজা সার্থক হবে, সকলের কল্যাণ হবে এবং আসুরিক শক্তির পতন ঘটবে। আসুন, আমরা সকল প্রকার তামাসিকতা পূজা বাদ দিয়ে শুদ্ধ আর্চ্চনায় মাতৃবন্দনা করি।

 

উল্লেখ্য, দুর্গা পৌরানিক দেবী। দুর্গাপূজা হতো বসন্তকালে। শরৎকালে অকাল বোধনের ইতিহাস অনুযায়ী, ভারতবর্ষে প্রথম দুর্গাপূজা হয় রাজশাহী জেলার তাহিরপুরে। সম্রাট আকবরের সময় রাজশাহীর জমিদার রাজা কংশনারায়ন প্রথম তাহিরপুরে দুর্গাপূজা করেন। এরপর থেকেই দুর্গাপূজা উৎসব ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করে।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com