নবীগঞ্জে হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু, লক্ষ টাকায় রফাদফা

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

নবীগঞ্জে হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু, লক্ষ টাকায় রফাদফা

Manual4 Ad Code

নিহত কিশোরী তানহা বেগম ও কথিত দাঁতের চিকিৎসক শাসুদ্দিন। বাঁ থেকে


নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ফার্মেসি ব্যবসায়ীর কাছে দাঁতের চিকিৎসা করাতে তানহা বেগম নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ উঠেছে- নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের ইমামবাড়ি বাজারে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীর অপচিকিৎসায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। পরে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় শিশুকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Manual2 Ad Code

 

এদিকে, বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করেছেন বলে নিহত তানহার মামা আলমগীর মিয়া জানান।

 

স্থানীয় লোকজনদের কাছ থেকে জানা যায়, হাতুড়ের ডাক্তার শামসুদ্দিনকে সাথে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী নগদ এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করে দিয়েছেন।

 

নিহত কিশোরী তানহা বেগম। তার বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নের গুনই গ্রামে।

 

পরিবার জানায়, নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে দাঁতের সমস্যায় আক্রান্ত হলে গত ২৭ মে তার নানি খোসেদা খাতুন তাকে নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ি বাজারস্থ ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও কথিত দাঁতের চিকিৎসক শামসুদ্দিন কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিশোরীর একটি দাঁত তুলে দেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, দাঁত তোলার পর থেকেই কিশোরীর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ফার্মেসি থেকে বের হওয়ার পরও রক্ত বন্ধ না হওয়ায় পরিবারের লোকজন আবারও ওই ফার্মেসিতে যান। কিন্তু তখন শামসুদ্দিনকে আর ফার্মেসিতে পাওয়া যায়নি। পরে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইমামবাড়ি বাজারের অন্য একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

 

পরদিন ২৮ মে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

 

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, কিশোরীর অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেননি ফলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

Manual2 Ad Code

 

নানি খোসেদা খাতুন জানান, দাঁত তোলার পর থেকেই কিশোরীর মুখে খাবার গ্রহণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সে কোনো ধরনের শক্ত বা স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছিল না। প্রচুর রক্ত করণ হয়েছে। ফলে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। আজকে (বৃহস্পতিবার) সকালে সে মৃত্যুবরণ করে।

 

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুদ্দিন দাঁত তোলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি যেদিন দাঁত তুলেছি সেদিন রোগি মারা যায়নি। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে।

 

Manual8 Ad Code

নিহত তানহার মামা আলমগীর মিয়া বলেন, আমার ভাগনি মারা গেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ কোরাইসি মক্কী ভাই বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করে দিয়েছেন। আমার ভাগনীকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করেছি।

Manual1 Ad Code

 

এ বিষয়ে ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ কোরাইসি মক্কী বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, কিভাবে শেষ হয়েছে বিষয়টি কিছুই জানিনা। খোঁজখবর নিয়ে আপনাদের বক্তব্য দিতে হবে।

 

নবীগঞ্জ থানা ওসি মোনায়েম মিয়া বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। কেউ অভিযোগ দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code