পদ্মায় পানি থেকে তোলা হচ্ছে বাস, বের হচ্ছে লাশ

প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২৬

পদ্মায় পানি থেকে তোলা হচ্ছে বাস, বের হচ্ছে লাশ

Manual8 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটির উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পানির নিচে থাকা বাসটির সামনের অংশ উদ্ধার করা হলে একের পর এক লাশ বের করতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে। এ পর্যন্ত বাস থেকে আট জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

এর আগে সন্ধ্যা দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কম‌প্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন নুসরাত (২৯) নামের এক নারী। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক।

 

পদ্মার পাড়ে ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা ও জামাই কাজী সাইফ আহমেদের খোঁজে এসেছেন রোকন। তিনি বলেন, আমার বন্ধুর ছোট বোন ও তার জামাই আজকে সাড়ে ৩টার বাসে রাজবাড়ী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনে ঢাকায় যাচ্ছিল। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। আমরা সাড়ে ৫টার দিকে সংবাদ পাওয়ার পর ঘাটে এসেছি। কিন্তু আমার ছোট বোন ও তার জামাইয়ের এখনও সন্ধান পাইনি।

 

শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, ছেলে সন্তান, মেয়ে সন্তান, ভাগ্নি ও ভাগ্নির ছেলে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে ওঠে। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নি স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও আমার সাত বছরের ছেলেসন্তান ও ১১ বছর বয়সের ভাগ্নে এখনও নিখোঁজ আছে।

Manual3 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সোয়া ৫টার দিকে বাসটি নদীতে পড়ে গেলেও দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দেরিতে উদ্ধারকাজ শুরু করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Manual4 Ad Code

 

উদ্ধারকাজ দেরি হওয়ার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে ছিল উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। সেখান থেকে ৩ নম্বর ঘাটে আসতে দুই মিনিটের পথ। অথচ এক ঘণ্টা পর হামজা ঘটনাস্থলে আসে। এরপর তার টানতে এবং হামজার অবস্থান নির্ণয় করতে আরও এক ঘণ্টা লেগে যায়। এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারেনি। রাত ৯টার দিকে বৃষ্টি থামলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহন নামে বাসটি কুষ্টিয়া কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বুধবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কুমারখালী থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বাসটি। দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

 

Manual5 Ad Code

সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনালে অবস্থিত বাসটি কাউন্টার মাস্টার তন্বয় শেখ বলেন, দুপুরে বাসটিতে ছয় জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। এরপর খোকসা থেকে সাত জন, মাছপাড়ায় চার জন, পাংশায় ১৫ জন ওঠেন। ইঞ্জিন কাভারেও চার জন যাত্রী ছিলেন। এছাড়া গোয়ালন্দ ঘাটে কয়েকজন যাত্রী ওঠেন। চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীসহ বাসে কমপক্ষে ৫০ জন ছিলেন।

 

কাউন্টার মাস্টারের ভাষ্য, ৪৫ সিটের বাস হলেও ৫০ জন ছিলেন। আবার ফেরিতে ওঠার সময় কেউ কেউ নেমেও যান। ফলে নদীতে পড়ার সময় কত জন যাত্রী ছিলেন সেটি নিশ্চিত নয়।

 

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‌বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code