সিলেট ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরের রাজনীতির তৃণমূল থেকে উঠে এসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার, এরপর দুইবারের মেয়র এবং এবার প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো এমপি হয়েই বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়ে চমক দেখালেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেন সিলেট বিএনপির এ দুই নেতা।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দুজনেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খন্দকার মুক্তাদির।
অপরদিকে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আরিফুল হক চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট। প্রথমে তিনি সিলেট-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে শেষ মুহূর্তে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হয়ে মাঠে নামেন এবং বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেন। এছাড়াও তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ওয়ার্ড কমিশনার থেকে মন্ত্রী হওয়া আরিফুল হক চৌধুরী ২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়ে সবার মনোযোগ কাড়েন। এ সময় তিনি নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পরম আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। সেই সূত্রে সিলেটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তিনি।
বিএনপি সরকারের পতনের পর ওয়ান-ইলেভেনের পটভূমিতে আরিফুল কারাবরণ করেন। তবে নানা প্রতিকুল পরিস্থিতির বাধা ডিঙিয়ে তিনি ফের নিজের অবস্থান শক্ত করেন। ২০১৩ সালে সিলেট সিটি করপোশেন নির্বাচনে তৎকালীন সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের বিপরীতে প্রার্থী হন। সিসিকের প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র ও একাধিকবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় পৌর মেয়র ও পরবর্তীতে সিটি মেয়র বদরউদ্দিন কামরানকে হারিয়ে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করে সিলেটের মেয়র হন আরিফুল হক। পরবর্তী নির্বাচনেও তিনি কামরানকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে সিসিক মেয়র হন।
২০২৩ সালের সিসিক নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মেয়র পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে দলের মনোনয়ন চান আরিফুল হক চৌধুরী। দল এ আসনে না দিলে তিনি অন্য কোনো আসনে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন। একেবারে সবার শেষে মাঠে নেমে আরিফুল সিলেট জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী জয়নাল আবেদীনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে ভোটের মাঠেও চমক দেখান।
আরিফুল হক চৌধুরী ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সফিকুল হক চৌধুরী এবং মা আমিনা খাতুন। তিন সন্তানের জনক আরিফুল হক ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি, সিলেট জেলা বিএনিপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির বিভাগীয় আহ্বায়কসহ সিলেটের নানা সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরিফুল হক চৌধুরীকে মন্ত্রী পদে মনোনীত করায় দল ও দলের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার ভোটার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এছাড়া ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের বাসা সিলেট নগরের তোপখানা এলাকায়। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় ব্যবসায়ী আবদুল মুক্তাদীরের সক্রিয় রাজনীতি শুরু হয় ২০১২ সালে। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। অতীতে জনপ্রতিনিধি ছিলেন না তিনি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আবদুল মুক্তাদীরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ছিলেন।
সিলেট জেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, বৃহত্তর সিলেট থেকে মন্ত্রী হিসেবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি সিলেটবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তাদের অভিজ্ঞতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততা সরকারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করবে। তাদের সুদক্ষ নেতৃত্বে সিলেটবাসীর উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান হবে।
(সুরমামেইল/এফএ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি