ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইয়ামালের স্পেন

প্রকাশিত: ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

ফ্রান্সকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইয়ামালের স্পেন

Manual1 Ad Code

খেলা ডেস্ক:
টানা তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠা হলনা ফ্রান্সের। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালে রানার্স আপ হয় কিলিয়ান এমবাপের দল। এবারও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ছিল ফরাসিরা। সেমিফাইনাল পর্যন্ত দাপুটে ফুটবল খেললেও শেষ চারেই আটকে গেল স্পেনের কাছে। মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে ও কিলিয়ান এমবাপেরা থাকলেন নিজেদের ছায়া হয়ে, ভাঙতে পারলেন না স্প্যানশ রক্ষণের দেয়াল। ওদিকে ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে লিড নেওয়া লুই দে লা ফুয়েন্তের দল দ্বিতীয়ার্ধে দলীয় সমন্বয়ে করলো আরও এক গোল। দিদিয়ের দেশমের দল শেষ পর্যন্ত একবারও জালের দেখা না পাওয়ায় ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে এবারের আসরের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে লামিন ইয়ামালের স্পেন।

 

এলিসে, দেম্বেলে ও এমবাপেদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণ ভাগ এবারের বিশ্বকাপে ফাইনাল পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকেই। তবে দুর্দান্ত এই আক্রমণ স্প্যানিশ প্রতিরোধের সামনে থাকল নিজেদের ছায়া হয়ে। টিকিটাকার পসরা সাজিয়ে ছন্দময় ফুটবলে বলের দখল রাখার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দখলেই রাখল স্প্যানিশরা। দারুণ দুই গোলে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ১৬ বছর পর ইউরো চ্যাম্পিয়নরা জিতে নিল ফাইনালের টিকিটও।

 

 

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলেছে। ফরাসি ও স্প্যানিশ আক্রমণে শুরুতেই ম্যাচ জমে ওঠে। তবে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্পেনি। ম্যাচের ২১ মিনিটে ফরাসিদের বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন লামিন ইয়ামাল। রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। এমবাপেরা প্রতিবাদ জানালেও তা ধোপে টেকেনি। স্পটকিক থেকে দারুণ এক গোল করে ম্যাচের ২২ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।

Manual5 Ad Code

 

এদিকে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়েই লড়াইয়ে নামে ফরাসিরা। তবে ফ্রান্সের ফুটবলারদের কাঁধে যেন আজ ভর করেছিল কোনো এক অজানা ভয়। এমবাপে-ওলিসেদের খেলায় তাই সমন্বয়হীনতাও ছিল বেশ। এ কারণে স্পেনের প্রতিরোধ ফাকি দিয়ে প্রথমার্ধে আর সমতায় ফিরতে পারেননি এমবাপেরা। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেলেও দিদিয়ের দেশমের দল দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াবে, এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকেই। তবে তাও আর হয়নি।

 

বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় স্পেন। দেশম ফ্রান্সের একাদশে বদল আনলেও সেসব আর কাজে লাগেনি। ৫৯ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার বদলে মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে। দুয়ে মাঠে নামার পরেই আরও বিপদে পড়ে ফরাসিরা।

Manual3 Ad Code

 

৫৮ মিনিটে দারুণ এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্পেনের পেদ্রো পোরো। গোলটি অনেকটাই নিজের চেষ্টায় তৈরি করেন পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পরো। এরপর দারুণ স্থিরতায় মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর ৬৪ মিনিটে জালের দেখা পেয়েছিলেন ইয়ামালও। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

 

২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মাইকেল ওলিসে ও লুকাস দিনিয়ের পরিবর্তে মাঠে নামেন রায়ান শেরকি ও থিও হার্নান্দেজ। তবে ফ্রান্সের ভাগ্য আর বদলায়নি। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে আক্রমণের গতি বাড়ায় স্প্যানিশরা। আগ্রাসী ফুটবলে ফরাসি রক্ষণে চেপে বসেন ইয়ামালরা। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সও আর গোলের দেখা পায়নি। ইয়ামালরা ম্যাচটি জিতে নেন ২-০ গোলে। আগামী রোববার রাতের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল।

Manual7 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code