‘বন্ধু ভুলিনি তোমায়, ভুলবো না, ভুলতে পারবো না’

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৫

‘বন্ধু ভুলিনি তোমায়, ভুলবো না, ভুলতে পারবো না’

Manual5 Ad Code

বিনোদন ডেস্ক :
‘প্লেব্যাক সম্রাট’ প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের প্রয়াণ দিবস ছিলো রোববার (৬ জুলাই)। ২০২০ সালের এই দিনে প্রয়াত হন তিনি। বিষাদের এই দিনে শিল্পীকে ঘিরে উল্লেখযোগ্য কোনও আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি।

Manual5 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

তবে, এ কণ্ঠশিল্পীর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করেছেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু, জনপ্রিয় উপস্থাপক ও অনুষ্ঠান নির্মাতা হানিফ সংকেত।

Manual3 Ad Code

এন্ড্রু কিশোরের সমাধির সামনে হানিফ সংকেত। ছবি: সংগৃহীত


প্রয়াণ দিবসে বন্ধুকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন হানিফ সংকেত। স্মৃতিচারণা করে তিনি লিখেছেন, ‘আজ বন্ধু এন্ড্রু কিশোরের পঞ্চম প্রয়াণ দিবস। যার কাছে গানই ছিল জীবন-মরণ, গানই ছিল প্রাণ। এই গানের জন্যই মানুষ তাকে ভালোবাসত, দিয়েছিল “প্লেব্যাক সম্রাট” উপাধি। কিশোর যেমন প্রাণ খুলে দরাজ গলায় গাইতে পারত, তেমনি সবার সঙ্গে প্রাণ খুলে মিশতে পারত।’

 

হানিফ সংকেত তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কটাও ছিল দীর্ঘদিনের। শিল্পী হিসেবে এন্ড্রু কিশোর যেমন অনন্য ছিলেন, তেমনি মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। হানিফ সংকেত লিখেছেন, ‘কিশোরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। একসঙ্গে অনেক আড্ডা দিয়েছি, বহুবার বিদেশে গেছি, একসঙ্গে থেকেছি। কিশোর ছিল “ইত্যাদি”র প্রায় নিয়মিত শিল্পী। একজন আদর্শ শিল্পী, একজন মানবিক মানুষ ছিল কিশোর। গানের মাধ্যমেই এন্ড্রু কিশোর বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বন্ধু ভুলিনি তোমায়, ভুলব না, ভুলতে পারব না। ভালো থেকো, শান্তিতে থেকো।’

 

Manual8 Ad Code

সাধারণত আপন মনে কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন এন্ড্রু কিশোর। জনসমক্ষে আসতে চাইতেন না। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল হানিফ সংকেতের ইত্যাদি। বন্ধুত্বের দাবি থেকে হলেও ইত্যাদিতে শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের গান উপহার দিতেন হানিফ সংকেত।

 

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্ম এন্ড্রু কিশোরের। তাঁর পুরো নাম এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। মা মিনু বাড়ৈ ছিলেন সংগীতানুরাগী এবং কিশোর কুমারের ভক্ত। সেই সূত্রেই ছেলের নাম রাখেন কিশোর। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই গানের ভুবনে পা রাখেন এন্ড্রু কিশোর। ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমায় আলম খানের সুরে প্রথম গান করেন কিশোর। এরপর একে একে ১৫ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। যা বাংলাদেশি কোনো শিল্পীর ক্ষেত্রে বিরল দৃষ্টান্ত। তাঁর গাওয়া কিছু জনপ্রিয় গান ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা আমায়’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি’, ‘সব সখীরে পার করিতে’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি চাঁদের জোছনা নও’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘কিছু কিছু মানুষের জীবনে’, ‘এক বিন্দু ভালোবাসা দাও’ ইত্যাদি।

 

সেরা গায়ক হিসেবে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code