বাংলাদেশে নীরব গর্ভপাতের হার বাড়ছে

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৬

বাংলাদেশে নীরব গর্ভপাতের হার বাড়ছে

Manual2 Ad Code
download (1)সুরমা মেইল : বিশ্বে প্রতি চার জন গর্ভবতী নারীর অন্তত একজনের শেষ পর্যন্ত গর্ভপাত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্ট বলছে বছরে পাঁচ কোটি ষাট লাখ নারীর গর্ভপাত হচ্ছে যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। গবেষকদের মতে গরীব দেশগুলোতে গত ১৫ বছরে অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। তবে গর্ভপাতের ঘটনা বেশি ঘটছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই। খবর : বিবিসি।
বাংলাদেশে গর্ভপাতের চিত্রটি কেমন? ঢাকার আজিমপুরের মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হাসপাতালে চকবাজার এলাকার একজন বাসিন্দা এসেছেন শাশুড়িকে সাথে নিয়ে।
তিনি জানান- গর্ভেই তার শিশুটি মারা যায়। এখন তিনি এসেছেন ডিএনসি করে মৃত শিশুটিকে বের করে আনার জন্য। তিনি বলছেন দুটি শিশু সন্তান থাকায় তৃতীয় সন্তানটি তার কাঙ্ক্ষিত ছিলনা। তবে আরও অনেকেই এসেছেন গর্ভপাত করাতে। আজিমপুর মেটার্নিটি হিসাবে পরিচিত এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩/৪ জনকে গর্ভপাত করানো হয় যেটি এম আর নামে পরিচিত। এখানকার আউটডোর ইনচার্জ মোর্শেদা খাতুন বলেন, আজও ৬ থেকে ৭জন এম আর করাতে এসেছিল। তারা সেবা দিতে পেরেছেন চারজনকে।
এখানকার মেডিকেল অফিসার গাইনীকোলজি বিভাগের চিকিৎসক জিনাত ইয়াসমিন বলেন, যেসব কারণে গর্ভপাত ঘটছে তার প্রধান কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে অসচেতনতা।
তিনি বলেন- বেশিরভাগ মহিলাই সচেতন না। যেসব পদ্ধতি আছে তারা সেগুলো নেয় না। পরে তারা যখন ঝুঁকির মধ্যে চলে যায় তখন আসে এম আর করাতে।
তিনি আরো বলেন, ৯৯% মহিলাকেই জন্মনিয়ন্ত্রণের দায় নিতে হয়। পুরুষরা কোনও পদ্ধতি নিতে চান না। এখন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী অনেক পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও সেসব গ্রহণে আগ্রহী হননা বেশিরভাগই। ফলে গর্ভপাতকেই তারা বেছে নিচ্ছেন সমাধান হিসেবে।
বাংলাদেশে বছরে কতজন গর্ভপাত ঘটাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনও হিসাব পাওয়া যায়নি। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরও গর্ভপাতের সঠিক কোনও পরিসংখ্যান দিতে পারেনি।
তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক রেজাউল করিম কাজল বলছেন, ২০০৮ সালে ওষুধ কোম্পানি গুলোর তরফ থেকে তেরি করা এক হিসেবে বলা হয়, বছরে প্রায় ৬ লাখ গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। আর বর্তমানে প্রতি এক হাজারে ১৮.২ জন নারী গর্ভপাত ঘটাচ্ছেন।
তিনি বলেন, একটা সময় গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে মাতৃ-মৃত্যুর হারটি ছিল অন্যতম বড় সমস্যা তবে সেটি ধীরে ধীরে কমে এসেছে।
তবে শল্য-চিকিৎসায় না গিয়ে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানোর পদ্ধতি ২০১২ চালু হওয়ার পর থেকে এমআরের সংখ্যা কমে গেলেও, নীরব গর্ভপাত বেড়ে গেছে বলে তারা ধারণা করেন।
তিনি জানান, নয় সপ্তাহের পরও এই ওষুধ খেয়ে শল্যচিকিৎসা ছাড়াই গর্ভপাত সম্ভব। বিশ্বের অনেক দেশেই গর্ভপাত নিষিদ্ধ।
ডা. কাজল বলেন, বাংলাদেশে আইন অনুসারে গর্ভপাত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মায়ের জীবন সংকটাপন্ন হলে তবেই গর্ভপাত ঘটাতে পারবেন চিকিৎসকরা। তবে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর মেয়েদের ঋতুস্রাব নিয়মিত করার জন্য মিনস্ট্রুল রেগুলেশন বা এমআর পদ্ধতির চালু হয়। এরপর থেকে গর্ভপাতের জন্য এই এমআর পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েই গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে।
সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতায় গর্ভপাত ঘটাতে নিয়মিতভাবেই রোগীরা আসছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক তো রয়েছেই। তবে এর বাইরে একটি বড় শ্রেণী ওষুধের মাধ্যমে বাড়িতেই গর্ভপাত ঘটাতে পারছেন। ফলে সঠিক পরিসংখ্যান বের করা কঠিন বলেই মনে করছেন গবেষকরা।
সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code