বাহুবলে ৪শিশুর বুকের পাঁজর ভেঙ্গে হত্যা করলো নরপশুরা

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬

বাহুবলে ৪শিশুর বুকের পাঁজর ভেঙ্গে হত্যা করলো নরপশুরা

Manual2 Ad Code

Children
সুরমা মেইল নিউজ : হবিগঞ্জের বাহুবলে অপহরণের পর বুকের পাঁজর ভেঙ্গে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গতকাল বুধবার চার শিশুর ময়নাতদন্ত হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরে রাতেই তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সুন্দ্রাটিকি গ্রামের নিখোঁজ হওয়া ৪ শিশুর গতকাল দুপুরে পাঁচ দিন পর বাড়ির ১ কিলোমিটার দূরের মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো- উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মোঃ ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার দুই চাচাতো ভাই আবদুল আজিজের ছেলে একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার ছেলে একই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র ইসমাঈল হোসেন (১০)। এদিকে নিহত শিশুদের বাড়িতে বইছে শোকের ছায়া। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা সকাল থেকেই নিহতদের বাড়িতে এসে ভিড় করছেন। এ লোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন একই এলাকার তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতরা হলো- আব্দুল আলী (৫৫) ও তাঁর ছেলে জুয়েল (২৫)। পরে আরজু নামের আরেক জনকে আটক করা হয়। থানার ওসি মোশাররফ হোসেন জানান, পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক আবদুল আলী ও জুয়েল মিয়াকে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জানা যায়, নিখোঁজ শিশুরা গত শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারী ) বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশের মাঠে খেলাধুলা করতে গিয়েছিল। সন্ধ্যার হয়ে গেলে তারা কেউ বাড়িতে ফিরে না আসায় অভিভাবকরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। কোথাও তাদের সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার রাতেই মাইকযোগে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করা হয়। গতকাল বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন লোক মাটি কাটতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান। এরপর তাঁরা নিখোঁজ শিশুদের বাড়ির অদূরে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি শিশুর হাত ও আরেক শিশুর পা দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code