বিনা বিচারে ২২ বছর কারাগারে থাকার পর ফজলু মিয়ার মুক্তি

প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৫

বিনা বিচারে ২২ বছর কারাগারে থাকার পর ফজলু মিয়ার মুক্তি

Manual5 Ad Code

fajlu

সুরমা মেইলঃ সিলেটে বিনা বিচারে ২২ বছর কারাগারে থাকা ফজলু মিয়া সহপাঠীর জিম্মায় জামিন পেয়ে অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন । এ সময় কারা ফটকে তাকে সংবর্ধনা দেন অওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক  অ্যাডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

Manual1 Ad Code

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- ফজলু মিয়ার জিম্মাদার কামাল উদ্দিন রাসেল ও মুক্তিযোদ্ধা বাদশা মিয়াসহ গ্রামের লোকজন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক থেকে তাকে গ্রহণ করেন।

এর আগে ১৯৮ তম হাজিরার দিনে গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম জহুরুল হক চৌধুরীর আদালতে এ জামিন দেয়া হয়।

Manual2 Ad Code

ফজলুর নিযুক্ত এডভোকেট জ্যোৎস্না ইসলাম তেতলী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও ফজলুর সহপাঠী কামাল উদ্দিন রাসেলের জিম্মায় জামিন আবেদন করেন।

বেসরকারী সংস্থা ব্লাস্টের সহায়তায় মামলার ধার্য তারিখে আইনজীবি জ্যাত্স্না ইসলাম ফজলু মিয়ার নীজ গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কামাল উদ্দিন রাসেলের জিম্মায় জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন দেন।

১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তাকে আটক পুলিশ। পরে পাগল আইন(মানসিক স্বাস্থ্য আইন) এর ১৩ ধারায় গেফতার দেখিয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরক করা হয়।

এরপর গত ২২ বছরে দুই ফজলু মিয়াকে আদালত জামিন দিলেও কোন নিকট আত্মিয় খোজে না পাওয়া সে মুক্তি পায়নি।

এডভোকেট জ্যোৎস্না ইসলাম জানান, ফজলু মিয়াকে আসামী হিসেবে নয় ভিকটিম হিসেবে বিচারকের কাছে তিনি উপস্থাপন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন পিপি এডভোকেট সৈয়দ শামিম আহমেদ।

জিম্মাদার কামাল উদ্দিন রাসেল বলেন, ‘দক্ষিন সুরমার তেতলি এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়াকে অনেক বছর খুঁজেছি। তিন বছর আগে জানতে পাই তিনি মারা গেছেন। এরপর খোঁজাখুজি বন্ধ করে দেই। গত দু’দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফজলুর সংবাদ প্রচার হলে তিনি জীবিত আছেন এ বিষয়ে অবগত হয়ে তার জামিনে আগ্রহী হই।’

Manual2 Ad Code

ফজলু মিয়ার জীবনের মূল্যবান সময় যারা নষ্ট করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে ফজলু মিয়ার অসাহায়ত্বের খবর প্রকাশ হলে এটি আলোচনায় উঠে আসে।
বিনা দোষে ২২ বছর ধরে কারাবাস, কবে ছাড়া পাবেন ফজলু? শিরোনামে প্রতিবেদন  প্রকাশ করে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code