ভাই-বোন হত্যা: বাবা-মা খালাকে আটক করেছে র‌্যাব

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০১৬

ভাই-বোন হত্যা: বাবা-মা খালাকে আটক করেছে র‌্যাব

Manual3 Ad Code

ashik_104118
সুরমা মেইল নিউজ : রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে ভাই-বোন চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনায় বাবা আমান উল্লাহ- মা মাহফুজা মালেক জেসমিন ও খালা আফরোজা মিলাকে তাদের জামালপুরের বাড়ি থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে র‌্যাব। হত্যাকান্ডের রহস্যের জট না খোলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই তিনজনকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

দুই শিশুর চাচা জামালপুরের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, র‌্যাব এসে আলামত দেখানোর কথা বলে তিনজনকে তুলে নিয়ে গেছে। এদিকে তাদের গ্রেপ্তার বা আটকের কথা অস্বীকার করেছেন র‌্যাব-৩ এর কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুশতাক আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে আসছি।
নিহত ইসরাত জাহান অরনী (১৪) রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং ভাই আলভী আমান (৬) হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির ছাত্র ছিল। খুনের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

বাবা আমান উল্লাহ একজন ব্যবসায়ী এবং মা বিয়ের আগে গ্রামের বাড়িতে একটি কলেজে শিক্ষকতা করলেও বিয়ের পর ঢাকায় চলে আসায় আর শিক্ষকতা করা হয়নি। গ্রামের বাড়িতে এই পরিবারের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ নেই। তারা এলাকায় ভদ্র পরিবার হিসেবে পরিচিত।

Manual8 Ad Code

র‌্যাব জানিয়েছে, মামলাটি জটিল হয়ে পড়েছে। কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাবা-মাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পরিবারের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল কি না? বাসায় কী পরিবার নগদ অর্থ থাকতো। কোনো অর্থ খোয়া গেছে কি না? এ সংক্রান্ত আরও অনেক প্রশ্নের সুরাহা করা প্রয়োজন। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামালপুরে ভালো পরিবেশ না থাকায় তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ দিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দুই/এক দিনের মধ্যে তারা রাজধানীর রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করবে।

Manual8 Ad Code

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এর আগে বাড়ির দারোয়ান, দুই গৃহশিক্ষকসহ ছয়জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ‘কেন্ট’ নামে বনশ্রীর যে রেস্তোরাঁর খাবার তারা খেয়েছিল, তার ব্যবস্থাপকসহ তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে সোমবারই আদালতে তোলে রামপুরা পুলিশ।

Manual7 Ad Code

এরা হলেন- রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মামুনুর রহমান মাসুদ, প্রধান বাবুর্চি আসাদুজ্জামান রনি ও তার সহযোগী আতাউর। এদিকে সন্তানদের লাশ হাসপাতালে নেয়া হলেও বাবা-মায়ের সেখানে না যাওয়া এবং লাশের আগে তাদের তড়িঘড়ি করে দেশের বাড়িতে চলে যাওয়াসহ বাবা-মায়ের আচরণ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়ায় পুলিশ বলছে, খুনের ঘটনায় বাবা-মাও সন্দেহের বাইরে নয়। তবে এক নিকটাত্মীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাদের মা-বাবা এতটাই নার্ভার্স হয়ে পড়েছেন যে, মাঝে মাঝে তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তাই তাদের আগে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code