সিলেট ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২৬
ছবি: অন্তর্জাল
অনলাইন ডেস্ক:
মঙ্গল গ্রহকে এতদিন আমরা শুধুমাত্র একটি শুকনো, লালচে এবং প্রাণহীন মরুভূমি গ্রহ হিসেবেই জানতাম। কিন্তু নতুন এক গবেষণা মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে আমাদের এই ধারণা বদলে দিতে শুরু করেছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহের ঘূর্ণনগতি প্রতিবছর কিছুটা বাড়ছে, যার ফলে গ্রহটির দিনের সময় কমে আসছে। নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে মঙ্গল গ্রহের ঘূর্ণনগতি বৃদ্ধির বিষয়টি জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মঙ্গল গ্রহের ঘূর্ণনগতি প্রতিবছর প্রায় ৪ মিলিআর্কসেকেন্ড করে বাড়ছে। এর ফলে মঙ্গলের প্রতিটি দিন এক মিলি-সেকেন্ডের সামান্য ভগ্নাংশ পরিমাণ ছোট হয়ে যাচ্ছে। যদিও এই পরিবর্তন আপাতদৃষ্টিতে খুব সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু এটি শনাক্তের জন্য নিখুঁত তথ্যের প্রয়োজন হয়েছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী সেবাস্তিয়ান লে মাইস্ত্রে বলেন, এই সামান্য পরিবর্তন দেখার জন্য অনেক দীর্ঘ সময় এবং প্রচুর তথ্যের প্রয়োজন হয়।
শুরুতে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, মঙ্গল গ্রহের ভরের পুনর্বণ্টনের কারণে এমনটি হতে পারে। মঙ্গলের মেরু অঞ্চলে অতিরিক্ত বরফ জমার কারণে গ্রহের ভরের ভারসাম্য পরিবর্তন হতে পারে। এই প্রক্রিয়া অনেকটা বরফের ওপর স্কেটিং করা একজন খেলোয়াড়ের মতো। একজন আইস স্কেটার যখন ঘোরার সময় তার হাত বা পা নিজের শরীরের ভেতরের দিকে গুটিয়ে নেন, তখন তার ঘূর্ণনগতি বেড়ে যায়। মঙ্গল গ্রহের ক্ষেত্রেও ভরের এই সংকোচন গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিষয়টি আরো জটিল হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলের ম্যান্টেলের ভেতর থেকে হালকা উপাদানের একটি বিশাল প্রবাহ ওপরের দিকে উঠে আসছে। এই নেতিবাচক ভরের অস্বাভাবিকতা মঙ্গলের ঘূর্ণনকে ত্বরান্বিত করছে।
এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল ঘূর্ণনগতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদি ম্যান্টেলের প্রবাহ এই গতির কারণ হয়, তবে এর মানে দাঁড়ায় মঙ্গল গ্রহ বিজ্ঞানীদের ধারণার মতো মৃত নয়। গ্রহের অভ্যন্তরে আজও সক্রিয় কোনো প্রক্রিয়া চলছে। এই কার্যকলাপ মঙ্গলের আগ্নেয়গিরি অঞ্চল যেমন থারসিস পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যেখানে সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরিগুলো অবস্থিত।
ইনসাইট মিশনের প্রধান গবেষক বিজ্ঞানী ব্রুস ব্যানারড্ট জানিয়েছেন, এই আধুনিক পরিমাপটি করতে পারা সত্যিই দারুণ একটি অভিজ্ঞতা। মঙ্গলের ঘূর্ণনগতি সম্পর্কে জানা কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয় এখন। ভবিষ্যতে এই তথ্য মহাকাশযানের নেভিগেশন এবং অবতরণ মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে মঙ্গলে যে মানব মিশন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তার হিসাব-নিকাশে এই সামান্য পরিবর্তনগুলোও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মহাকাশ মিশনের প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, নিখুঁত সময়ের হিসাব রাখা ততই জরুরি হয়ে পড়ছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
(সুরমামেইল/এএইচএম)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি