রাণীশংকৈলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ‘ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল’র অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

রাণীশংকৈলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ‘ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল’র অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

Manual8 Ad Code

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মোঃ আল আমিন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

Manual6 Ad Code

গ্রেপ্তার মোঃ আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মোঃ হানিফের ছেলে।

 

র‌্যাব-১৩-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩, রংপুরের সদর কোম্পানি এবং র‌্যাব-১-এর সিপিএসসি, গাজীপুরের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

 

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ভুক্তভোগী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করার সময় আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হলে সেখানে অবস্থানরত আল আমিন তার গলা ধরে তাকে পুনরায় বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যায়।

 

এ সময় জনি ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করে এবং তাকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আল আমিনও ওই নারীকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

Manual8 Ad Code

 

র‌্যাব জানায়, ঘটনার ভিডিও ধারণের পর আসামিরা তা সংরক্ষণ ও অন্যত্র স্থানান্তর করে। পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

 

এজাহার অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগী আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান এবং পরবর্তীতে আইনের আশ্রয় নেন।

 

ঘটনার পর ভুক্তভোগী গত ২০ আগস্ট রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর-২৮। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।

 

মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে র‌্যাব-১৩-এর একটি গোয়েন্দা দল আসামিদের অবস্থান শনাক্তে নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার অন্যতম আসামি মোঃ আল আমিন গাজীপুর এলাকায় অবস্থান করছে।

Manual2 Ad Code

 

পরে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও আইনগত প্রক্রিয়া ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

(সুরমামেইল/এমআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code