সিলেট ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:০২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২৬
ধর্ম-দর্শন ডেস্ক:
মহান আল্লাহ তার অসীম দয়া ও অনুগ্রহে রমজানকে বানিয়েছেন রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে একটি অমূল্য রত্ন হলো রোজাদারের দোয়া। রোজা যেমন দেহকে সংযমে অভ্যস্ত করে, তেমনি অন্তরকে নরম করে তোলে; সে সময় মানুষের অন্তর অনেকটা ভাঙা অন্তরের মতো হয়ে যায়। আর ভাঙা হৃদয়ের দোয়া আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত। নিম্নে দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো-
রোজা ও দোয়ার গভীর সম্পর্ক
রোজা ও দোয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কারণ মহান আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্তির অন্যতম মাধ্যম হলো দোয়া। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দোয়াও একটি ইবাদত। -সুনানে আবু দাউদ: ১৪৭৯
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো জিনিস নেই। -ইবনে মাজাহ: ৩৮২৯
রমজানে মুমিনের করণীয়ই হলো, যেকোনো মূল্যে মহান আল্লাহকে খুশি করার চেষ্টা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমার নিকট জিজ্ঞেস করে, আমি তো (তাদের) নিকটেই, আহবানকারী যখন আমাকে আহবান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই; সুতরাং তাদের উচিত আমার নির্দেশ মান্য করা এবং আমার প্রতি ঈমান আনা, যাতে তারা সরলপথ প্রাপ্ত হয়।’ -সূরা বাকারা: ১৮৬
এ আয়াতটি রোজার আয়াতগুলোর মাঝখানে এসেছে, যেন ইঙ্গিত করছে, রোজা ও দোয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রোজা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়; আর নৈকট্যই দোয়া কবুলের অন্যতম কারণ।
রোজাদারের দোয়া অব্যর্থ প্রতিশ্রুতি
মহান আল্লাহ তার বিশেষ কিছু বান্দার দোয়া প্রত্যাখ্যান করেন না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না, ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না ইফতার করে এবং মজলুমের দোয়া। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোয়া মেঘমালার ওপরে তুলে নেবেন এবং তার জন্য আসমানের দ্বারগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং আল্লাহ বলবেন, আমার মর্যাদার শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, একটু বিলম্বেই হোক না কেন। -ইবনে মাজাহ: ১৭৫২
এবং এই মাসের প্রতিটি রাতেও আল্লাহতায়ালা তার নিজ অনুগ্রহে অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, …আর একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে, হে কল্যাণের প্রত্যাশী, অগ্রসর হও; হে অকল্যাণের প্রার্থী, থেমে যাও। আর আল্লাহতায়ালা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন। -মুসনাদে আহমদ: ১৮৭৯৪
রমজানের রাতের দোয়া
পবিত্র রমজানে একটি রহস্যময় ও ফজিলতপূর্ণ রাত রয়েছে। আর তা হলো লাইলাতুল কদর। কিন্তু কেউই সে রাতের সঠিক তারিখ জানে না। মুমিনের উচিত রমজানের প্রতিটি রাতেই লাইলাতুল কদরের ফজিলত পাওয়ার আশায় দোয়া, জিকির, তেলাওয়াত ইত্যাদি করা। কারণ আমরা কেউই নির্দিষ্ট করে জানি না, সে রাতটি কোন রাত। তাই সে রাতের কল্যাণ অর্জনের জন্য রমজানের প্রতিটি রাতকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রমজান এলেই আল্লাহর রাসুল (সা.) সাহাবাদের বলতেন, ‘তোমাদের কাছে এই মাস সমাগত হয়েছে, তাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃত পক্ষে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। একমাত্র দুর্ভাগাই এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।’ -ইবনে মাজাহ: ১৬৪৪
নবী কারিম (সা.) এই রাতের কল্যাণ লাভের জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। যদি কোনো ব্যক্তি রমজানের প্রতিটি রাতে এই দোয়ার আমল করে, তাহলে তার লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি কদরের রাত পেয়ে যাই তবে কী দোয়া পড়ব? তিনি বলেন, তুমি বলবে, ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো। অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ -ইবনে মাজাহ: ৩৮৫০
তাই প্রত্যেক রোজাদারের উচিত রমজানের দিনগুলোতে বেশি বেশি দোয়া করা।
(সুরমামেইল/এএইচএম)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি