রোজা পালনে অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রকাশিত: ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৬

রোজা পালনে অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

Manual6 Ad Code
download (7)স্বাস্থ্য ডেস্ক : পবিত্রতা আর পরিশুদ্ধতার মধ্য দিয়ে পালিত হয় মাহে রমজানের সব আনুষ্ঠানিকতা। মাসজুড়ে রোজা রাখার ধর্মীয় এবং আত্মিক গুরুত্বের কথা কমবেশি আমরা সবাই জানি। কিন্তু রোজা রাখার শারীরিক উপকারের কথা আমরা অনেকেই জানি না। রোজা পালন করলে পাওয়া যায় অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা। তাই আজ জেনে নেবো স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে।

দেহের টক্সিন দূর : আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রতিদিন বেড়ে চলেছে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা। যেমন- হাতে বানানো রুটির বদলে খাই পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, পিৎজার মতো নানা ধরনের মুখরোচক খাবার। বাইরে বের হয়ে কাজের ফাঁকে ঝটপট ক্ষুধা নিবারণে এগুলোই থাকে হাতের নাগালে। কিন্তু এসব খাবার থেকে আমাদের দেহে জমা পড়ে ক্ষতিকারক টক্সিন। এতে অ্যাজমা, আথ্রারাইটিস, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইলিওর, দৃষ্টিশক্তি হারানো, দাঁত পড়ে যাওয়া, মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদির পেছনে মূল কারণ হলো এই AGE। রোজাতে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে এই ফ্যাট কমে আসে। ক্ষতিকারক টক্সিনগুলো লিভার, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের মধ্য থেকে বেরিয়ে যায়।

হজমক্রিয়ার বিশ্রাম : দেহের যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খাবার হজমের কাজ করে, রোজার সময় তারা কিছুটা বিরতি পায়। হজমের রস নিঃসরণ তখন ধীর হয়। খাবারগুলোও ভাঙে ধীরে। দেহে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটা খুব সহায়ক। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও তখন নিঃসরণ হয় ধীরে। তবে রোজা রাখলেও পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণ বন্ধ হয় না। এজন্যই পেপটিক আলসারের রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে ডাক্তাররা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন।

এলার্জি এবং চর্মরোগ নিরাময়ক : তজনিত কারণে দেহ যে প্রক্রিয়ায় অসুস্থ হয় রোজা সে প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে দেয়। ফলে রিউমাটয়েড আর্থ্রারাইটিস, এলার্জি, সোরিয়াসিস নামক চর্মরোগ ইত্যাদি থেকে নিরাময়ে রোজার ভূমিকা আছে বলে মনে করেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, পিত্তথলির রোগ আলসারেটিভ কোলাইটিস নিরাময়েও রোজার ভূমিকা অনেক।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে : রোজা রাখাকালীন একজন মানুষের দেহের গ্লুকোজগুলো দ্রুত ভাঙতে থাকে এবং দেহের জন্যে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে। ফলে তখন ইনসুলিনের উৎপাদন কমে যায় যা প্যানক্রিয়াসকে কিছুটা বিশ্রাম দেয়। অন্যদিকে গ্লুকোজ ভাঙার সুবিধার্থে শরীরে গ্লাইকোজেন তৈরি হয়। এর ফলে দেহে ব্লাড সুগারের পরিমাণ কমে তা ডায়াবেটিস প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

Manual1 Ad Code

ফ্যাট কমায় : দেহে রোজার প্রথম প্রভাবই হলো গ্লুকোজের আধিক্য কমানো। আর গ্লুকোজ যখন কমে যায় তখন কেটসিস নামে দেহের এক ধরনের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয় যা ফ্যাট কমায় এবং শরীরে শক্তি যোগায়। এমনকি কিডনি বা পেশিতে যে ফ্যাট জমে তাও ক্ষয় হয়ে শরীরে শক্তি উৎপাদিত হয়।

রক্তচাপ কমায় : ওষুধ ছাড়া রক্তচাপ কমাবার এক আদর্শ পদ্ধতি রোজা। কারণ রোজা রাখলে প্রথমে গ্লুকোজ, পরে চর্বিকণাগুলো ক্ষয় হয়ে শক্তি উৎপাদন করে। রোজা রাখলে মেটাবলিক রেটও কমে। এড্রিনালিন এবং নরএড্রিনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন উৎপাদন কমে। আর এতে করে মেটাবলিক হার একটা স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে। ফলে ব্লাড প্রেশার কমে। আর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এথেরেসক্লেরোসিস বা ধমনীতে চর্বি জমার প্রক্রিয়ার ওপর যা হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমায়।

Manual2 Ad Code

নেশাদ্রব্য থেকে মুক্তি : অনেকেরই অনেক ধরনের বদ অভ্যাসের প্রতি আসক্তি থাকে। এর মধ্যে ধুমপান করা, নেশা করা, অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া প্রভৃতি রয়েছে। রমজানে সারাদিন খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকায় অনেক ধরণের বাজে অভ্যাস থেকে দূরে সরে আসা সহজ হয়। একটানা কয়েকদিন বিরত থাকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সেই অভ্যাসটা ত্যাগ করা সহজ হয়। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এ কাজটা সংঘবদ্ধভাবে করা যায়। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস রমজান মাসটাকে ধুমপান ছেড়ে দেবার জন্য আদর্শ সময় বলে আখ্যায়িত করেছে।

Manual2 Ad Code

ভোজনবিলাস কমানো : রমজানে খাবার কম খাওয়াতে পাকস্থলী সংকুচিত হয়ে যায়। তাই অল্প খাবার খেলেই পেট ভরে যায়। রমজান মাস হচ্ছে সঠিক খাদ্যাভ্যাস শুরু করার একটা ভীষণ ভালো সময়। কাজেই এ ধরনের অভ্যাসের কারণে রমজানের পরেও দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ করাটা সহজ হয়।

Manual1 Ad Code

কোলেস্টেরল কমানো : মধ্যপ্রাচের একদল কার্ডিওলজিস্ট গবেষণার ফলে বলেছেন, যারা রমজানে রোজা রাখেন তাদের রক্তে কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। নানা ধরণের হৃদরোগ যেমন হার্ট আটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির ঝুঁকিও কমে যায়। আর যদি রমজানের পরেও সুষম এই খাদ্যাভ্যাস চালু রাখা যায় তবে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি : রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে দেহ ও মনে নিঃসন্দেহে একধরণের ইতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখেছেন যে, রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে মস্তিষ্কে নতুন নতুন কোষের জন্ম হয়। ফলে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বেড়ে যায়। অন্যদিকে কোটিসল নামক একধরণের হরমোন রয়েছে যা আড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত হয় তার পরিমাণও কমে যায়। এর ফলে পুরো রমজান মাসে এবং রমজানের পরেও মানসিক চাপ বেশ কম থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code