লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন যুবক নিহত

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন যুবক নিহত

Manual5 Ad Code

মা শাহীনুর বেগমের সঙ্গে তার তিন মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত


মেইল ডেস্ক:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক নারী ও তার দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার পর একই ঘটনায় আহত ছোট মেয়েও মারা গেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন যুবক এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (জুন) বিকালে সদর হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবক এবং ঢাকায় নেওয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ছোট বোন মারা যান। পরিবারে শুধু বেঁচে আছে ইকরার একমাত্র ভাই।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আহত মেজো মেয়ে নাফিজা আক্তার ইকরাও মারা গেছে। ছবি: সংগৃহীত


এদিন সকালে রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীরপাড়ের একটি ভাড়া বাসায় একই পরিবারের চারজনকে কোপানো হয় বলে জানায় পুলিশ।

 

ঘটনাস্থলে সন্দেহভাজন যুবককে পিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টার সময় জনতার ইটপাটকেলে পুলিশের ছয় থেকে সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন।

 

নিহতরা হলেন- শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়।

 

শাহীনুরের বড় মেয়ে সায়মা ঢাকা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। মেজো মেয়ে ইকরা রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি থেকে এসএসসির ফলপ্রত্যাশী ছিল। একই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল ছোট মেয়ে শিফা।

 

Manual6 Ad Code

গণপিটুনিতে মারা যাওয়া যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। অন্তর রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

 

খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ সুপার আবু তারেক হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী, ভাড়াটিয়াসহ আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তবে কী কারণে নির্মম এ ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি কেউ।

Manual7 Ad Code

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে শাহীনুর বেগম তার সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন।

 

সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা সন্দেহভাজন অন্তরকে গণপিটুনি দেয়। আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকালে মারা যায়। এছাড়া পিটুনিতে আহত অন্তরকে সদর হাসপাতাল নিলে তিনিও মারা যান।

 

Manual7 Ad Code

শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

 

মুরাদ বলেন, ‘সিফাতের মা ও তিন বোনকে কুপিতে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় সেও কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সেও আতঙ্কগ্রস্ত। সে কারো সঙ্গে কথা বলার অবস্থাতে নেই।’

 

লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর-সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশের ছয় থেকে সাতজন সদস্য আহত হন।

 

ঘটনার তদন্ত চলছে জানিয়ে পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ‘অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। সাত থেকে আট মাস আগে অন্তর বাসা ছেড়ে চলে যান। হয়তো পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর সে ঘটনাটি ঘটায়।’

 

Manual4 Ad Code

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘রাণী নামের এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চায়, তখন অন্তর বলে, সে পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছে। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেইট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেয়। তিনি পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদঘাটন করাই সম্ভব হত না।’

 

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, ‘হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে সেও মারা যায়।’

 

এছাড়া একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাত ছিল। সদর হাসপাতালে তিনিও মারা গেছেন।

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code