শিশু ধর্ষণের ১৫ বছর পর ৩ জনের আমৃত্যু ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ৯:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬

শিশু ধর্ষণের ১৫ বছর পর ৩ জনের আমৃত্যু ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Manual8 Ad Code

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে সংঘটিত এক শিশু ধর্ষণ মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

Manual6 Ad Code

 

রায়ে প্রধান তিন আসামি মোঃ আনিস রানা, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ (এ) ধারা কিংবা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের রেমিশন সুবিধা পাবেন না।

 

এছাড়া অপর তিন আসামি মোঃ আনিছুর, মোঃ খতিবুর খতু ও মোঃ লালুকে একই আইনের ৯ (৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

আদালত রায়ে আরও উল্লেখ করেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ওই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

Manual6 Ad Code

মামলার বিবরণে জানা যায় ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘ’টনার চার দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাম’লা দা’য়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ১৫ বছর পর বহুল আলোচিত এ মা’মলা’র রায় ঘোষণা করা হলো।

 

রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস রানা পলাতক থাকায় তার বি’রুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

 

Manual4 Ad Code

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, এটি একটি ন্যায়সঙ্গত রায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

Manual5 Ad Code

 

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবান রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আদালতের রায় ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে সংবিধান প্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
আদালত প্রাঙ্গণে রায়কে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

 

(সুরমামেইল/এমআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code