সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা, জঙ্গীদের আটকের দাবী গীতিকার ফোরাম’র

প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা, জঙ্গীদের আটকের দাবী গীতিকার ফোরাম’র

Manual1 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও লুটতরাজকারী হিলফুল ফুজুল সংঘ নামধারী জঙ্গীদেরকে আটক করার দাবী জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন “জেলা গীতিকার ফোরাম সুনামগঞ্জ।”

Manual1 Ad Code

শনিবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আব্দুল হাই হাছন পছন্দ মিলনায়তনে ফোরামের সম্মেলন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ দাবী জানানো হয়।

Manual1 Ad Code

সভায় বলা হয়, নবীজী (সঃ) হিলফুল ফুজুল সংঘ গঠন করেছিলেন সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। নবীজীর গঠিত সংগঠন কারো সভা সমিতি সমাবেশে এমনকি কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা লুঠতরাজ ভাংচুর করেছে এ ধরনের নজীর বা ইতিহাস পবিত্র ধর্ম ইসলামে নেই। অথচ বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব মুক্তিযুদ্ধের সরকারের শাসনামলেও ধর্মের দোহাই দিয়ে জঙ্গী সন্ত্রাসীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে। তাই গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের ছমেদনগর গ্রামের বাউল শিল্পী আব্দুল কাইয়্যুমের বাড়ীতে শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলাকারীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Manual4 Ad Code

ফোরাম’র সভাপতি ডা. আমান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক গীতিকার অরুন তালুকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিস্তরিত আলোচনা করে বক্তব্য রাখেন, ফোরামের উপদেষ্টা গীতিকার শেখ এম.এ ওয়ারিশ, গীতিকার তছকীর আলী, ডা. মোহাম্মদ এমরান কয়েস, গীতিকার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, গীতিকার সাংবাদিক আল-হেলাল, ফোরামের সহ-সভাপতি বাউল শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম পলাশ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আলী সিদ্দিক, অর্থ সম্পাদক সুব্রত দাস, ডা. বায়েজিদ হোসাইন, আপ্যায়ন সম্পাদক মীর হোসেন, গীতিকার মো. মারুফ শাহ, গীতিকার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, গীতিকার ডা. সুজিত দেবনাথ, গীতিকার যোবায়ের বখত সেবুল, গীতিকার ইয়াকুব আলী, গীতিকার আব্দুর রশীদ, গীতিকার কৃষ্ণ চন্দ, গীতিকার শামীমা আক্তার,গীতিকার মীর হোসেন, গীতিকার মাসুদুল মামুন রেসিন, গীতিকার ইমরান আহমদ, গীতিকার মো. কুতুব উদ্দিন, গীতিকার হাবিবুর রহমান পিস্তল শাহ, কবি গীতিকার নজরুল মিয়া, গীতিকার মনোয়ার হোসেন, গীতিকার কয়ছর আহমদ, গীতিকার আসাদ আলী, বাহাউদ্দিন চিশতী, বাউল কাইয়্যুম পাশা, গীতিকার সৈয়দ সিরুন্নবী, গীতিকার মো. আলী হোসেন, গীতিকার নাঈম আহমদ শামীম, গীতিকার চিনু চক্রবর্তী, কবি সাহিত্যিক ফজলুল হক দোলন, গীতিকার শেখ এম আর রাসেল, গীতিকার রতন দাস, গীতিকার সৈয়দ তাহির আলী, গীতিকার আলী আকবর ও গীতিকার আমজাদ পাশা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের ছমেদনগর গ্রামের বাউল শিল্পী আব্দুল কাইয়্যুমের বাড়ীতে পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, স্থানীয়  কান্দি ছমেদনগর গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র মাওলানা আলী আহমদ ওরফে জুলহাস মিয়া (২৮), তাহের মিয়ার পুত্র  হারুন (২০), আমিন মিয়ার পুত্র  বুলবুল (৩৫), ছমেদনগর গ্রামের ওয়াজিদ মিয়ার পুত্র আতিক (২০), আশরাফ আলীর পুত্র জুয়েল (২০), মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র রফিক মিয়া (৩০) ও মুকিত (৫০), মৃত মোবারক হোসেনের পুত্র আশরাফ আলী (৪৫) ও বনগাও গ্রামের আকবর আলীর পুত্র মাওলানা দেলোয়ার হোসেন (২৮) এর নেতৃত্বে একদল যুবক “হিলফুল ফুজুল সংঘ” নামে একটি জঙ্গী সংগঠনের ব্যানারে বেআইনী জনতাবদ্ধে একজোট হয়ে বাউল শিল্পী আব্দুল কাইয়্যুম এর বাড়ীর সামনের জমিতে পরিচালিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ,মাইক,চেয়ার টেবিল ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়।

মঞ্চের উপরে রাখা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমসহ পঞ্চরতœ বাউল শিল্পীর ছবিসমেত ডিজিটাল ব্যানার টেনে ছিড়ে জমিতে ফেলে পা দ্বারা মাড়ায় এবং সভাস্থলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। জঙ্গী মনোভাবাপন্ন সন্ত্রাসীদের এহেন বেআইনী কাজে বাধা দিলে তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সমুজ আলীকে মারপিঠ করে জমিতে ফেলে তার পকেট থেকে নগদ টাকা,অতিথি শিল্পী বাউল আমজাদ পাশার বেহালা, শিল্পী আব্দুল কাইয়্যুম এর হারমোনিয়াম এবং একজন যন্ত্রশিল্পীর ঢোল জোরপূর্বক ছিনতাই করে নেয়।

পরদিন শুক্রবার সন্ত্রাসীদের এহেন ঘটনার প্রতিবাদ করায় এরা অব: সেনাসদস্য আব্দুল মালেক এর উপরও হামলা চালায়।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code