হবিগঞ্জে চাঁদা নিতে গিয়ে বৈছাআ নেতা সাকিবসহ আটক ৩

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

হবিগঞ্জে চাঁদা নিতে গিয়ে বৈছাআ নেতা সাকিবসহ আটক ৩

Manual8 Ad Code

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
এক ব্যবসায়ীর কাছে ‘চাঁদা দাবি করতে গিয়ে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এনামুল হক সাকিবসহ তিনজন জনতার হাতে আটক হয়েছেন। পরে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে।

 

Manual2 Ad Code

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরআগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জনতা তাদের আটক করে বিক্ষোভ করেন।

 

আটক এনামুল হক সাকিব শহরতলীর উমেদনগরের আব্দুল মতিনের ছেলে। বাকিরা হলো- মো. শিহাব আহমেদ একই এলাকার পুরান হাটির শাহ আলমের ছেলে ও মো. মোশারফ নসরতপুরের আব্দুল কাইয়ূমের ছেলে।

 

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে সেনাবাহিনী তিনজনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Manual7 Ad Code

ওসি বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে চৌধুরী বাজারের খোয়াই মুখ এলাকার ব্যবসায়ী ‘শেখ জামাল অটোমেটিক ফ্লাওয়ার মিলস’ এর স্বত্ত্বাধিকারী শেখ জামাল মিয়াকে ‘মবের’ হুমকি দিয়ে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সাকিব। এর কিছু দিন যেতে না যেতেই সে আবারও ওই ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে সাকিবের নেতৃত্বে শিহাব ও মোশারফসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল জামাল মিয়ার দোকানে গিয়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

Manual3 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

বিষয়টি তাৎক্ষণিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা সেখানে ভিড় করে তাদের আটক করে রাখেন এবং উত্তেজিত জনতা তাদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন।

 

পুলিশ জানায়- সাকিবের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘মবের’ হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

চৌধুরী বাজারের বাসিন্দারা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের মহিলা কলেজ রোড এলাকায় সাকিবের নেতৃত্বে কয়েকজন চাঁদাবাজ বাবুল হরিজনের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাবুল ও এক নারীকে মারধর করে তারা। তাদের চিৎকারে হরিজন সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ এসে দুই জনকে আটক করে। এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে সাকিবসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। তখন স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা সাকিবের নেতৃত্বে তারা হামলা ঘটনা স্বীকার করে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাকিব নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তার নেতৃত্বে একটি চক্র চাঁদাবাজি করে আসছে। মামলার ভয় দেখানো, ডেভিল হিসেবে মানুষকে ধরিয়ে দেওয়াসহ নানাভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্রটি। সাকিব ও তার বাহিনীর ভয়ে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আতঙ্কে ছিলেন।

 

ভুক্তভোগী চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী শেখ জামাল বলেন, এনামুল হক সাকিব কয়েকদিন আগেও মামলা-হামলার হুমকি দিয়ে আমার কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা নিয়েছে। সে ১০-১২ জন নিয়ে আমার দোকানে এসে দুই লাখ টাকা দাবি করে। স্থানীয়রা জানতে পেরে সাকিবসহ তিনজনকে আটক করেছেন। বাকিরা পালিয়ে গেছে।

 

(সুরমামেইল/এমএকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code