হবিগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ৪ গ্রাম, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২৬

হবিগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ৪ গ্রাম, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Manual4 Ad Code

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রাম। এতে শত শত পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

Manual8 Ad Code

 

“রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও পুকুর পানির নিচে চলে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্যচাষীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।”

 

শুক্রবার (১২ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ভান্ডারুয়া, জামালপুর ও এক্তিয়ারপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বেশ কয়েকটি মাটির ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।

Manual1 Ad Code

 

স্থানীয়রা জানান, ‘টানা বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিমনা ছড়ারপাড় ভেঙে রাতারাতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিন গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি এবং গবাদিপশুর খাদ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন পুকুর ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মৎস্যচাষীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক কৃষক তাদের সারা মৌসুমের ফসল হারানোর আশঙ্কা করছেন।

Manual5 Ad Code

 

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী শনিবার (১৩ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জানান, ‘প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ একর আউশ ধান ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।’

 

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ত্রাণ বা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।’

 

এদিকে তেলাইন্নাছড়া পাহাড়ি ঢলের পানিতেও ছড়ার দুই পাড় প্লাবিত হয়ে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর এবং জগদীশপুর ইউনিয়নের তেমুনিয়া এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

 

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

Manual2 Ad Code

(সুরমামেইল/এমএকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code