হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২২

হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্ক :
শেষ উইকেটের অপেক্ষা যেনো শেষ হচ্ছিলো না। শেষ উইকেটের আগে সপ্তম উইকেটে সবোর্চ্চ পার্টনারশীপ ছিলো ২৮ রান। সেখানে জিম্বাবুয়ে দলের শেষ দুই ব্যাটার রিচার্ড এনগারাভা ও ভিক্টর নিয়াউচি তুললেন ৬৮ রান। তাদেরকে যেনো থামানোই যাচ্ছিলো না।

 

শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজের শিকারে ভিক্টর সাজঘরে ফিরলে বাংলাদেশ এড়ায় হোয়াইটওয়াশ। তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ সমতায় শেষ হয়েছে। সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দল জিতলো ১০৫ রানে।

 

২৫৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে শুরুতেই চেপে ধরেন বাংলাদেশের বোলাররা। দলীয় ৫ রানেই প্রথম উইকেট হারায় দলটি। কুদজোয়ানাশে কাইতানোকে ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে সাজঘরে পাঠান হাসান মাহমুদ। রানের খাতা খুলতে পারেননি এই ওপেনার।

 

হাসানের পর মিরাজও ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে দলীয় ৭ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এই ওপেনার ৪ বলে ১ রান করেন। এরপর উইকেটে জোড়া আঘাত হানেন অভিষিক্ত এবাদত। ইনিংসের ষষ্ট ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ১৮ রানের মাথায় ওয়েসলে মাধভেরেকে তিনি ফিরিয়ে দেন প্যাভেলিয়নে। ১০ রানে মাত্র এক রান করেন এই ব্যাটার।

 

দ্রুত উইকেট হারানোর পর হাল ধরার চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা। তবে এবার আর তাকে সফল হতে দেননি এবাদত। পরের বলেই রাজাকে সাজঘরে ফেরান এবাদত। দুই ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি করা রাজা এবার রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

 

এরপরই উইকেটের দেখা পান তাইজুল। ইনিংসের নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৩১ রানের পঞ্চম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ২২ বলে ১০ রানে সাজঘরে ফিরেন যান ইনোসেন্ট কাইয়া। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। বল হাতে দুর্দান্ত হয়ে উঠেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি একে ফিরিয়ে দেন ২৪ রান করা ক্লাইভ মাদান্দেকে, ১৫ রান করা লুক জঙ্গে, ২ রান করা ব্র্যা ইভান্স ও শেষ উইকেটে ২৬ রান করা ভিক্টরকে। ভিক্টার নিয়াউচিকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের শেষ উইকেটে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। ২৭ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন রিচার্ড এনগারাভা।

 

বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ চারটি, তাইজুল ও এবাদত ২টি করে উইকেট লাভ করেন।

 

এর আগে সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডেতে দুই তরুণ ব্যাটার আফিফ হোসে ধ্রুব ও এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে স্বাগতিকদের ২৫৭ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ সাত রানের মধ্যেই হারায় তিন উইকেট বিপর্যয়ে পড়ে। জিম্ববাুয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ে একে একে ফিরে যান অধিনায়ক তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম।

 

বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে দারুণ শুরু করেন তামিম ও বিজয়। তবে দলীয় ৪৭ রানে তামিম ইকবাল রানাউটে ফিরলেই শুরু হয় উইকেট পতন। ইনিংসের নবম ওভারের তৃতীয় বলে ব্যক্তিগত ১৯ রানে তামিম ফিরেন সাজঘরে। তার বিদায়ের পর উইকেটে আসাস নাজমুল হোসেন শান্ত পরের ওভারের প্রথম বলেই ফিরেন সাজঘরে। দলীয় ৪৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।

 

শান্তর বিদায়ের পর উইকেটে আসা মুশফিকুর রহিমও রানের খাতা খুলতে পারেননি। শান্তকে ফেরানো ইভান্স তিন বল খেলা মুশফিককেও শুন্য রানে ফেরান সাজঘরে। দলীয় ৪৭ রানেই তৃতীয় উইকেটও হারায় টাইগাররা। দশম ওভারের প্রথম ও চতুর্থ বলে জোড়া উইকেট শিকার করেন ইভান্স। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও এনামুল হক বিজয় চতুর্থ উইকেটে ৭৭ রান যোগ করেন। দলীয় ১২৪ রানে চতুর্থ উইকেটে বিজয় ফিরেন সাজঘরে। তার আগে ছয় চার ও চার ছয়ে ৭১ বলে ৭৬ রান করেন তিনি।

 

বিজয়ের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। দলীয় ১৭৩ রানে এই সিনিয়র ক্রিকেটার সাজঘরে ফিরেন ইনিংসের ৩৫তম ওভারের প্রথম বলে। ৫৬.৫২ গড়ে ৬৯ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পর দ্রুত ফিরেন মিরাজও। দলীয় ২০৬ রানে ষষ্ট উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ৪২ তম ওভারের শেষ বলে বলে সাজঘরে ফেরার আগে মিরাজ ২৪ বলে ১৪ রান করেন।

 

ফিফটি করে বিজয় ফিরে যাওয়ার পরে এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ছয় ব্যাটারের জুটি জুটি গড়ে শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থেকেছেন ৮৫ রানে। ৮১ বলের লড়াকু ইনিংসে ছয়টি চার ও দু’টি করে চার হাঁকিয়েছেন এই তরুন।

 

জিম্বাবুয়ের হয়ে লুক জঙ্গে ও ব্র্যাড ইভান্স ২টি করে উইকেট লাভ করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com