প্রতিমা বিসর্জনে ভারত-বাংলার দুই তীরে সম্প্রীতির মিলনমেলা

প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৪

প্রতিমা বিসর্জনে ভারত-বাংলার দুই তীরে সম্প্রীতির মিলনমেলা

Manual8 Ad Code

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি :
উৎসবমুখর পরিবেশে শেষবারের মতো তেল-সিঁদুর পরিয়ে ধান, দূর্বা, মিষ্টি দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জের সনাতন ধর্মালম্বীরা। রোববার (১৩ অক্টোবর) জকিগঞ্জ পৌর এলাকার কাস্টমঘাটস্থ কুশিয়ারা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।

 

বিজয়া দশমীর দিন মন্ডপে মন্ডপে ভক্তদের মধ্যে বিষাদের ছায়া ছিল। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে নারীরা। মর্তলোক থেকে কৈলাসে দেবীকে বিদায় জানাতে নেচে গেয়ে মাতোয়ারা হয়ে সেজেছিলেন উৎসবের বর্ণিল রঙে। প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পুজামন্ডপ থেকে শোভাযাত্রাসহ নেচে গেয়ে কাস্টমঘাটে এসে প্রতিমা বিসর্জন করেন পূজার্থীরা।

 

সনাতন ধর্মালম্বীদের এ উৎসবকে ঘিরে ভারত-বাংলার দুই তীরে বসেছিলো ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষের মিলনমেলা। আনন্দে মেতে ওঠে সীমান্ত ঘেঁষা এ নদীপাড়ের নানা ধর্ম-বর্ণের হাজারো মানুষ। ঢাকঢোল, কাসর, করতাল, মন্দিরা, বাঁশি এবং শঙ্খ’র ধ্বনিতে মুখরিত হয় গোটা এলাকা। ভারত-বাংলার নদীর দুই তীরে দু-দেশের প্রতিমা বিসর্জন দেখতে অগণিত লোকের সমাগম ঘটে। অসংখ্য মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে জকিগঞ্জ শহরের কাষ্টমঘাট ও ভারতের কাষ্টমঘাটস্থ অখন্ড মন্ডলী মন্দিরের আশপাশ এলাকা। কয়েকযুগধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে এ উৎসব ভারত-বাংলাদেশের দুই তীর এভাবেই চলে আসছে।

 

বিজয়া দশমীতে পূজার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে বিসর্জন ঘাটে আসেন রাজনীবিদ ও জনপ্রতিনিধিগণের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ জকিগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। প্রতিমা নিরঞ্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ডিবি পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল, আনসার সদস্যরা ছিল সর্তক অবস্থায়। ভারতের করিমগঞ্জেও দেখা গেছে সেখানকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা।

 

Manual4 Ad Code

প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান মঞ্চে উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি সঞ্জয় চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাজস বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মালম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি জকিগঞ্জ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ দত্ত পুরকায়স্ত অজয়, জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা তাসলিম, জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন, সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার জুয়েল উদ্দিন, ১৯ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি শফিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদন হাসান আহমদ, জকিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম মাহমুদ হাসান রিপন, জকিগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর রিপন আহমদ, সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন খান, সাবেক ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক সামসুল হক চৌধুরী সামু, ছাত্রনেতা বদরুল ইসলাম, সাবেক সুলতানপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মুমিন, রাজিব হাসানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বক্তারা বলেন, বিশ্ব দরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। আবহমান কাল থেকে আমাদের দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। এবছরে অন্তবর্তীকালীন সরকার সকল ধর্মের মানুষের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। জকিগঞ্জ উপজেলায় যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে। পুরনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে অবদান রাখতে বক্তারা আহবান জানিয়েছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা তাসলিম জানান সর্বজনীন ৭৬ ও একক ৬ টি মিলে সর্বমোট ৮২ টি মন্ডপে এবছরে পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পুজা সম্পন্ন হয়।

 

জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, এবার জকিগঞ্জে সর্বজনীন পূজা হয়েছে ৭৬ টি ও এককভাবে ৬টি পুজা হয়েছে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন মন্ডপ থেকে সনাতন ধর্মালম্বীরা জকিগঞ্জ কাস্টমঘাটে প্রতিমা নিয়ে এসে বিসর্জন দিয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত অনান্য বাহিনীর সদস্যরাও সর্তক অবস্থানে ছিলেন।

Manual6 Ad Code

 

জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি শফিকুর রহমানসহ বক্তারা বলেন, আমাদের দেশ বিশ্বদরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। আবহমান কাল থেকে আমাদের দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে হিন্দুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় এভাবে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় বিধি বিধান পালন করতে পারেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে আহবান জানিয়েছেন।

Manual3 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

(সুরমামেইল/এএইচএল)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code