অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার আশ্বাসে ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ

প্রকাশিত: ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৬

অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার আশ্বাসে ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ

Manual3 Ad Code

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে একটি প্রতারক চক্র। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা। এ ঘটনায় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা সব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বড়লেখা উপজেলার করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিন এবং জুড়ী উপজেলার বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়া। গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

Manual1 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

পুলিশ ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক নারী ফোন করে বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগমকে জানান, তার অসুস্থ ছেলেকে কথিত জিন্নী হুজুর সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

 

Manual2 Ad Code

ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করেন রোকেয়া বেগম। এরপর তাকে বাড়ির পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসতে বলা হয়। তিনি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর ফিরে গিয়ে দেখেন, সেগুলো নেই।

 

পরে ওই নারীকে ফোন করলে জানানো হয়, জিন্নী মুমিন স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে তার ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়া হবে।

 

এরপর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী আবার ফোন করে একই স্থানে আরও স্বর্ণালংকার রাখতে বলেন। এবার স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় রোকেয়া বেগম দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। কিন্তু ফিরে গিয়ে সেগুলোও পাননি।

Manual4 Ad Code

 

এভাবে দুই দফায় তার কাছ থেকে মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস, এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

 

উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেছেন।

 

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার চারজনকে সোমবার (২ নভেম্বর) বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

 

(সুরমামেইল/এমবিএন)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code