সিলেট ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২৪
কানাইঘাট প্রতিনিধি :
সিলেটের কানাইঘাট দনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করে বিজিবি ক্যাম্পে রাখা হয়।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরীন।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিনের কোন এক সময় সাবেক বিচারপতি মানিক স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে দনা সীমান্ত এলাকা পাড়ি দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে তাকে স্থানীয় কিছু লোকজন আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার নাম শামসুদ্দিন মানিক পরিচয় দিয়ে একটি ভিডিওতে বলতে শুনাগেছে “টাকা লাগলে তিনি দিবেন, তার ভাই-বোন দিবেন, আমি এদেশে এতো কষ্ট করে এসেছি কি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য?”
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন সহ এলাকার আরো অনেকে জানিয়েছেন, দনা পাতিছড়া গ্রামের রফিকুল হোসেনের ছেলে সাদ্দামের সহায়তায় অবৈধভাবে শুক্রবার বিকেলের দিকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক বিচারপতি মানিক। পরে তাকে দনা বিজিবির সদস্যরা আটক করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যান। সাদ্দাম হোসেনের বসত বাড়িটি বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তঘেষা। সে ভারতে অবৈধভাবে বিভিন্ন সময়ে অনুপ্রবেশ করে থাকে বলে জানা গেছে।
এদিকে বিজিবির সদস্যদের হাতে আটকের পর বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিকের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে। ভিডিওতে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিককে বিষন্ন অবস্থায় কলা পাতায় শুয়ে থাকা অবস্থায় কথা বলতে দেখা গেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দনা বিজিবি ক্যাম্পের হেফাজতে থাকা দেশের সমালোচিত সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিককে দেখতে শত শত মানুষ ক্যাম্পের পাশে ভিড় করছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় মানিকের নামে গত সোমবার নোয়াখালীর আদালতে মামলা হয়েছে। কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করেন। একই অভিযোগে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে আইনজীবী মো. জিয়াউল হক বাদী হয়ে আরেকটি মামলার আবেদন করেন। আদালত অভিযোগটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
(সুরমামেইল/এমআর)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি