সিলেট ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে শুল্ক না দিয়ে প্রতিমাসে কয়েক শ’ কোটি টাকার মালামাল আসছে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। আর এতে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের কুনকিরি হাদারপার গ্রামের লিয়াকত আলী আজাদ। নিজের অস্থিত্বের জানান দিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব (লাইনম্যান) বাহিনী। স্থল পথের পাশাপাশি নদীপথে প্রতিনিয়ত লিয়াকত আলী আজাদ’র রামরাজত্বের কারণে শান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট এখন অপরাধের নিরাপদস্থলে পরিনত হয়েছে। থানা পুলিশের সাথে গড়ে তুলেছেন সখ্যতা। কখনো কখনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ব্যাবহার করে নিজে কিংবা (লাইনম্যান) দিয়ে দৈনিক কিংবা সাপ্তাহিক টাকা নিয়ে থাকেন বলে অনুসন্ধানে জানাযায়।
লিয়াকত আলী আজাদ’র রমরমা চোরাই পণ্য বাণিজ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার স্থানীয় লোকজন বলেন, কথিত লিয়াকত আলী আজাদ সীমান্তের নানা পয়েন্ট ব্যবহার করে শত কোটি টাকার বেশি ভারতীয় গরু/মহিষ শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট ও প্যান্টের থান কাপড়, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, ব্যাকপাইবার হুইস্কি, রিকোডেস্ক, বিয়ার, মোটর সাইকেল, গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, গরু মোটা-তাজাকরণের স্টেরয়েড ট্যাবলেট, হলুদ, জিরা, এলাচি, দারুচিনি, গোলমরিচসহ যাবতীয় মসলা, মুভ, ইসগার্ড, লিভ ৫০২, রিভাইটেল, সেনেগ্রা, ভায়াগ্রাা, ফেয়ার এন্ড লাভলিসহ বিভিন্ন কসমেটিকস পন্য অবাধে দেশে প্রবেশ করে থাকে। এসব চোরাচালান আমদানিতে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযানে বিজিবি কিংবা থানা পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে কাস্টমসে জমা দেয়ার আগে বেশিরভাগই পেছনের দরজা দিয়ে চলে যায় চোরাই সিন্ডিকেটের হাতে। ফলে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকার শুল্ককর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতীয় এসব চোরাই পণ্যের দখলে চলে গেছে বাংলাদেশের বাজার। বলা চলে অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়ছে দেশের সীমান্ত এলাকা গোয়াইনঘাট। দেশের চলমান পরিস্থিতিতেও চোরাই পন্য আমদানিতে সিন্ডিকেট চক্ররা এখন আরও সক্রিয় থাকায় দেদারসে দেশে ঢুকছে ভারতীয় নানা পন্যে।
সোমবার বিছনাকান্দী সীমান্ত দিয়ে বেশ কিছু ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর স্থানীয় হাদারপাড় বাজারে মজুদ করে জেলা শহরে নিয়ে যাওয়ার সময়। সারী-গোয়াইনঘাট রোড এবং গোয়াইনঘাট সরকারী কলেজ রোড থেকে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী’র যৌথ অভিযানে ৭টি এইচ পিকআপ ভর্তি ৩৮টি গরুসহ ৭জনকে আটক করে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ যাহার বাজার মূল্য আনুমানিক ৩০লক্ষ টাকা। পরর্বতীতে থানা পুলিশ ১০জনের নাম উল্লেখ করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি বিশেষ ক্ষমতা আইন ২৫(উ) নং-১৭/১৬৮ মামলা করে।
জানাযায়, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের রুস্তমপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা এসআই এনামুল, এএসআই শহীদুল ইসলাম, বিজিবির বিছনাকান্দী ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার হারুনুর রশিদকে ম্যানেজ করে লিয়াকত আলী আজাদ রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অবৈধভাবে প্রতিমাসে কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয় দেশের জাফলং, বিছানাকান্দি সীমান্ত দিয়ে। কিন্তু ঐসব পণ্য বৈধপথে আসেনা মূলত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবাধে নিয়ে আনা হয়। আর এসবের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে হুন্ডিতে। এভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় পণ্যের অবৈধ আমদানির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশীয় শিল্পোৎপাদন। অবৈধ পথে আমদানিকারকদের শুল্ক পরিশোধ করতে হয় না।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশের শক্তিশালী একাধিক সিন্ডিকেট এ কাজে জড়িত।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, চোরাই পণ্য বিক্রিতে লাভ বেশি হয় বলে শুল্ক ছাড়া এসব পণ্যের বাজার মূল্য অনেক কম থাকে। এ কারণে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ভারতীয় পণ্যের কাছে মূল্য ও মানে অনেক দেশীয় পণ্য মার খাচ্ছে। এছাড়া বৈধপথে আমদানিকারকরাও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বেশি লাভজনক হওয়ায় বৈধ আমদানির চেয়ে অবৈধ আমদানির দিকেই ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা।
ত্রিশ লক্ষ টাকার ভারতীয় গরু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো: হারুনুর রশিদ জানান, সীমান্ত এলাকা হওয়ার সুবাদে এখানকার চোরাকারবারিরা বেশ তৎপর। এ উপজেলার আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দের সযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপরাধ ও অপরাধীদের দূরীকরনে কাজ করতে হবে।
(সুরমামেইল/এমএএইচ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি