সিলেট ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২৪
কানাইঘাট প্রতিনিধি :
নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত সিলেটের কানাইঘাটের শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানায় বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হারিছ চৌধুরীর মরদেহ পুনরায় দাফন করা হবে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিম চৌধুরীসহ আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে ও সিদ্ধান্তক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিনের উপস্থিতিতে প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর পিতা শফিকুল হক চৌধুরীর নামানুসারে করা শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানা প্রাঙ্গনে হারিছ চৌধুরীর মরদেহ পুনরায় দাফন করার সিন্ধান্ত নেয়া হয়।
আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর চলতি মাসে তার তার ইচ্ছানুযায়ী নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানা প্রাঙ্গনে দাফন করা হবে বলে তার মেয়ে সামিরা চৌধুরী জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেভাবে মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননায় প্রয়াত কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম হারিছ চৌধুরীর লাশ তার পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানা প্রাঙ্গনে দাফন করা হবে। কবরের জায়গার স্থান সেভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে কবে হারিছ চৌধুরী লাশ দাফন করা হবে এটি আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন জানান। দাফনের জায়গার স্থান নির্ধারণের সময় হারিছ চৌধুরীর আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়ছল আহমদ ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ফয়ছল আহমদ বলেন, বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব বীরমুক্তিােদ্ধা আবুল হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছিলো। কিন্তু তিনি দেশ থেকে কোথাও পালিয়ে যাননি, তিনি ঢাকাতে আত্মগোপনে ছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। আমি বিভিন্ন সময়ে আমাদের নেতা হারিছ চৌধুরীর সাথে সাক্ষাতও করেছি এবং তার সাথে সব-সময় যোগাযোগ ছিল। স্বাধীন দেশে মুক্তভাবে হারিছ চৌধুরীর লাশ তার নিজ এলাকা সিলেটের কানাইঘাটে এখন দাফন করা হবে।
হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা চৌধুরী বলেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আমরা নানা ভাবে অবিচার সহ হয়রানীর স্বীকার হয়েছি। আমার বাবা মারা যাওয়ার পরও সে সময় সরকারকে জানিয়ে কোন প্রতিকার পায়নি। উল্টো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং তার মৃত্যুর বিষয়টি অমিমাংসিত থেকে যায়। আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে বাবার লাশ সনাক্ত করে তার ইচ্ছা অনুযায়ী কানাইঘাটে দাফন করতে পারব, যার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।
প্রসঙ্গত, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আবুল হারিছ চৌধুরী মারা যান। ৪ সেপ্টেম্বর প্রফেসর মাহমুদুর রহমান নামে ঢাকার সাভারে একটি মাদ্রাসায় তার লাশ দাফন করা হয়। এরপর আবুল হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিষ্টার সামিরা চৌধুরী প্রফেসর মাহমুদুর রহমানই তার পিতা আবুল হারিছ চৌধুরী দাবী করে লাশের পরিচয় সনাক্ত করার জন্য উচ্চ আদালতের স্মরনাপন্ন হলে আদালতের নির্দেশে তার লাশ কবর থেকে তোলা হয়। এরপর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে লাশের পরিচয় সনাক্ত করা হয়।
(সুরমামেইল/এমআর)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি