হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২৬

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই নেতা গ্রেপ্তার

Manual7 Ad Code

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হুমকী দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

রাত ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ইয়াছমিন খাতুন।



জানা গেছে, আটক মাহদীকে এখন হবিগঞ্জ সদর থানায় রাখা হয়েছে। এরআগে, শনিবার দুপুরে মাহদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

 

Manual2 Ad Code

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে পুলিশ। নয়ন জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী দাবি করে শুক্রবার দুপুরে তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাহদীসহ কয়েকজন নেতা।

Manual4 Ad Code

 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনে বসে আছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন নেতা-কর্মী। পুলিশের সঙ্গে তারা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন।

 

এসময় মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল, এই গভমেন্ট আমরা গঠন করেছি। অথচ আপনি আমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে আসছেন। আবার এখন বার্গেনিং করছেন।’

 

ওই নেতা আরও বলনে, ‘এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। সবচেয়ে ক্রুশাল আন্দোলন যেসব জায়গায় হয়েছে, সেখানে হবিগঞ্জ একটা। বানিয়চং থানা কিন্তু আমরা পুড়াই দিছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালাই দিছিলাম। এখন কোন সাহসে তাদের ধরে নিয়ে আসা হলো আমি জানতে চাই।’

 

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মাহদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ করার কারণে যদি একটা মানুষ অপরাধী হয়ে থাকে; তাহলে তো আমাদের মূল সমন্বয়কারী ভাই যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে যেমন সারজিস আলম ভাই, উনিও একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাহলে তো উনিও অপরাধী।’

 

তিনি বলেন, ‘এনামুল হাসান নয়ন আগে ছাত্রলীগ করলেও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন। যার প্রমাণ পুলিশকে দেওয়ার পরও তারা নয়নকে ছাড়তে রাজী হয়নি। উল্টো থানার ওসি আমাদের বলেছেন- ‘আন্দোলন করেছে বলে কি হয়েছে, সে তো একসময় ছাত্রলীগ ছিল’।’

 

Manual4 Ad Code

ওসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওসির সঙ্গে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করি, কিন্তু ওসি আমাদের গুরুত্ব না দেওয়ায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।’

 

তিনি বলেন, ‘শায়েস্তাগঞ্জ থানায় কিন্তু এটাই প্রথম ঘটনা নয়, এরকম আরও ঘটনা ঘটেছে।’

 

এদিকে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে মাহদীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির ফেসবুক পেজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

মাহদীকে দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শোকজ নোটিশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে সংগঠনের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এ নোটিশে বলা হয়, ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মাহদী হাসানের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। ওই বক্তব্যগুলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জনপরিসরে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে কেন্দ্রীয় কমিটি মনে করে।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার কারণ দর্শানোর নোটিশে মাহদী হাসানকে তার বক্তব্য দেওয়ার কারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত জবাব আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর দপ্তরের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মাহদী হাসান সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বানিয়াচং থানায় এসআই সন্তোষকে পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। এরপর তার লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

 

এরআগে, সংঘাত থামাতে পুলিশের গুলিতে ওই এলাকায় ৯ জন নিহত হন।

 

গত ২৫ জুলাই এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন করে বিবিসি বাংলা। এতে থানায় বাছাই করে পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।

 

Manual8 Ad Code

(সুরমামেইল/এমএকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code