সিলেট ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের জন্য ২০০ ট্রলি হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজনের বাড়ি বগুড়ায়। অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা। আকাশ পথের যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আজেল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশি হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বসির এবং সিথি আক্তার। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে স্থানান্তর করা হলে বিচারক তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকাকে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশের পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে ওই দুই ব্যক্তির নাম ছাড়া তাদের পরিচয় শনাক্ত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাদের পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্বের তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কনস্যুলেট।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও রায় বহাল রাখে।
ওই দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কিনা, তারা আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কিনা কিংবা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তার অনুরোধে আটককারী দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবিলম্বে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি