সিলেট ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
সিলেটজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শিশু ভর্তি সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই টিকা নেয়নি, আবার কেউ কেউ টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে অভিভাবকদের মনে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৬ মার্চ থেকে ২০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের সেখানে ভর্তি করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। হামের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের হাম ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ভর্তি শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা বেডে বসে আছেন। কেউ শিশুকে কোলে নিয়ে আছেন; কেউ বেডে শুইয়ে সন্তানকে পর্যবেক্ষণ করছেন। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের দেখভাল করছেন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখা গেছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তাদের হাসপাতালে ২৬ মার্চ থেকে ২০ বিশিষ্ট শয্যা একটি ওয়ার্ডে আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্য়ন্ত সেখানে ৩৯ জন শিশু ভর্তি হয়েছে; তাদের মধ্যে ১৭ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বর্তমানে ২২ জন শিশু চিকিৎসাধীন।
ভর্তি থাকা ২২ শিশুর মধ্যে তিন জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক; তাদের কারো কিডনি সমস্যা, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক শিশুর পিতা মো. রুহুল আমিন বলেন, নানা কারণ মেয়েকে হামের টিকা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সারাদিনে ডাক্তার একবার আসে, তখন আমারা কিছু বলতে পারি না। কারণ আমরা বাইরে থাকি। আমার মেয়ের তেমন উন্নতি হচ্ছে না। ওর কষ্ট হচ্ছে।
সিলেট নগরীর বাসিন্দা অনিক দেব তার ১১ মাস বয়সী মেয়েকে সোমবার রাত ১টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার আগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি টের পান। তার ভাষ্য, মেয়েটি অসুস্থ থাকার কারণে হামের টিকা নেওয়া হয়নি। এখানে আসার পর সকালে ডাক্তার দেখে গেছেন। বর্তমানে মেয়ের অবস্থা ভালোই মনে হচ্ছে। হাসপাতালে ডাক্তারদের সেবা মোটামুটি ভালো।
নগরীর বাগবাড়ীর বাসিন্দা জুয়েল আহমদ বলছিলেন, ২৬ তারিখ আমার সাত মাস বয়সি বাচ্চার জ্বর উঠলে প্রাইভেট ডাক্তার দেখাই। জ্বর না নামায় পরদিন ওসমানী হাসপাতালে গেলে ডাক্তার বলেন, আমার বাচ্চার হাম হয়েছে। তারপর এই হাসপাতালে ভর্তি করাই।
বর্তমানে মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডাক্তারা বলেছে মেয়ে রিকভার করেছে। কিন্তু তার নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে, আরও তিনদিন চিকিৎসা চলবে। তারপর মেয়েকে নিয়ে যেতে পারব।’
হাম প্রতিরোধে ৯ ও ১৫ মাসের দুই ডোজ টিকাই জরুরি বলে জানিয়েছেন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ৯ মাস থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে। কিছু বাচ্চা আছে হামের এক ডোজ টিকা নিয়েছে তারাও আক্রান্ত হচ্ছে। কোনো বাচ্চা আছে, কোনো টিকা পাইনি।
বিশ্বে প্রতি পাঁচ বছর পর পর হামের প্রকোপ বাড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, তাই শিশুদের হামের টিকা দিতে হবে। আতঙ্কের কিছু নেই। আমরা বাচ্চাদের অভিবাভকদের প্রতি অনুরোধ করব, যাদের বাচ্চার বয়স হয়েছে তারা কাছের টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে হামের টিকা নেন। এছাড়া যারা টিকা মিস করেছেন তারাও টিকা নেন।
সিলেটের সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন বলেন, হাম রোগে আক্রান্তের সন্দেহভাজন হিসেবে সিলেট জেলায় এখন পর্যন্ত ৫০ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে দুটি শিশুর কর্নফাম হাম পাওয়া গেছে, একটি শিশু সিটি করপোরেশন এলাকার ও অপর শিশুটি সদর উপজেলার। তবে এখন পর্য়ন্ত সিলেটে কোনো শিশু মারা যায়নি।
হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে বাড়তি কোনো লক্ষণ বা পরিবর্তন চিকিৎসকদের চোখে ধরা পড়ছে কি-না এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন হামের নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি।’
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম বলেন, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৬ জন, সুনামগঞ্জে একজন ও হবিগঞ্জের বাহুবলে একজন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি আছেন।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি