সিলেট ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬
খেলা ডেস্ক:
প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে পড়ার পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের চমৎকার ফিফটি আর শেষ ওভারের চরম নাটকীয়তার পর জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
রোববার (১৯ জুলাই) বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য ২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। তবে শুরুতেই স্বাগতিকদের ধাক্কা দেন টাইগার স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। দলীয় ৬ রানের মাথায় ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে (৪) সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিয়ন মেয়ার্স মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। বেনেট ৪৭ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শিকার হলে ভাঙার আগে জুটিতে আসে ৭১ রান।
আরেক প্রান্তে মেয়ার্স ফিফটি করলেও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের রানের গতি কমে যায়। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে (৩) রিশাদ হোসেন এবং রায়ান বার্লকে (৭) বিদায় করেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। শেষ দিকে মেয়ার্সের ৫৩ বলে ৭৩ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে সাইফউদ্দিন ২টি, এছাড়া মেহেদী, রিশাদ ও সাকলাইন ১টি করে উইকেট নেন।
১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হন ওপেনার সাইফ হাসান। এরপর পারভেজ হোসেন ইমনকে সাথে নিয়ে ইনিংসের হাল ধরেন তানজিদ হাসান তামিম। ইমন ২৪ রান করে আউট হলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক ফিফটি তুলে নেন তানজিদ।
দলীয় রান যখন ১০০ পার হয়, তখন জিম্বাবুয়ের বোলারদের জোড়া আঘাতে তানজিদ তামিম ও এরপর ক্রিজে আসা অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় (১৯ বলে ২৪) বিদায় নিলে ম্যাচটি কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইয়াসির আলী চৌধুরী ৯ বলে ১০ রান করে আউট হলে ক্রিজে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও শেখ মেহেদী হাসান।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৫ রান। ব্র্যাড ইভান্সের করা ওভারের প্রথম বলে ১ রান আসার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন পরপর আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচটিতে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়। সমীকরণ দাঁড়ায় ৩ বলে ৪ রান।
চতুর্থ বলটি করার সময় ফিল্ডার পজিশন পরিবর্তন করায় আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করেন। তবে ঠিক পরের বলেই মাথা ঠান্ডা রেখে দুর্দান্ত এক চার মেরে ২ বল হাতে রেখেই দলের ৪ উইকেটের জয় ও সিরিজ নিশ্চিত করেন শেখ মেহেদী হাসান।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্র্যাড ইভান্স, রিচার্ড এনগারাভা ও সিকান্দার রাজা প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করলেও শেষ রক্ষা হয়নি স্বাগতিকদের।
(সুরমামেইল/এএইচএম)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি