পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যা: জামিনে মুক্ত আলোচিত সেই এসআই

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৫

পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যা: জামিনে মুক্ত আলোচিত সেই এসআই

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ (৩৩) হত্যার আলোচিত মামলার প্রধান অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিন পেয়েছেন।

রোববার (১০ আগস্ট) হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হন তিনি।

Manual4 Ad Code

হত্যাকাণ্ডের সময় বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ ছিলেন আকবর। এ ঘটনার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।

আকবরের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারগার ২-এর ডেপুটি জেলার মনিরুল হাসান। তিনি বলেন, উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত হয়ে জামিনের কাগজ রোববার আমাদের কাছে পৌঁছায়। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যাপর এসআই আকবর জামিনে মুক্তি পান।

‘গত ফেব্রুয়ারিতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এর কার্যক্রম শুরু হলে ২৫ মার্চ আকবরকে সেখানে আনা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই ছিলেন।’

জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমেদকে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। নিহত রায়হান সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

Manual2 Ad Code

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি করে সিলেট মহানগর পুলিশ। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়। ওই ঘটনায় এরপর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিন পুলিশ সদস্যকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার পর থেকে এসআই আকবর পলাতক ছিলেন।

রায়হান হত্যার ঘটনার রাতেই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে সিলেট কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। পরদিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর ২২ অক্টোবর প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, নিহত রায়হানের শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৪টি ছিল গুরুতর। তার দুটি আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। আর এমন নির্যাতন চালানো হয় তার মৃত্যুর ২ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে। এ ছাড়া, তার শরীরে চামড়ার নিচ থেকে প্রায় ২ লিটার রক্ত পাওয়া যায় ময়নাতদন্তের সময়। এ ছাড়া রায়হানের ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল আর বাঁ হাতের অনামিকার নখ উপড়ানো ছিল। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে তার মৃত্যু হয় বলে ময়নাতদন্তে উঠে আসে।

Manual6 Ad Code

২০২১ সালের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন– সহকারী উপপরিদর্শক আশেক এলাহী, কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস, ফাঁড়ির টুআইসি পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান। পরে একই বছরের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবরকে গ্রেফতার করা হয়।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


 

Manual4 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code