সোনালি ধানে হাসছে হাওর, শ্রমিকের চড়া মূল্যে কাঁদছে কৃষক

প্রকাশিত: ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

সোনালি ধানে হাসছে হাওর, শ্রমিকের চড়া মূল্যে কাঁদছে কৃষক

Manual6 Ad Code

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
​সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দিগন্তজোড়া হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। চ্যাপ্টির হাওর, বরাম হাওর ও কালিকোটা হাওরসহ উপজেলার ছোট-বড় সব হাওরেই ধান পাকতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটার উৎসব। তবে সোনালি ফসলের এই হাসি কৃষকের মুখে স্বস্তি ফেরাতে পারছে না। একদিকে বৈরী আবহাওয়ার ভয়, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট- এই দুইয়ে মিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা।

Manual1 Ad Code

 

​সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যে দু-চারজন স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদের মজুরি সাধারণ কৃষকের সাধ্যের বাইরে। কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিকরা এখন এক বিঘা জমির ধান কাটার জন্য ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন।

 

​কালিকোটা হাওরের এক চাষি আক্ষেপ করে বলেন, এত টাকা দিয়ে শ্রমিক নিলেও তারা শুধু ধান কেটে জমিতে ফেলে রাখবে। সেই ধান আঁটি বেঁধে খলায় তোলা বা মাড়াই করার জন্য আবার আলাদা খরচ ও শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে ধানের দামের চেয়ে উৎপাদন ও কাটার খরচই বেশি পড়ে যাচ্ছে।

 

​হাওরের কৃষকদের প্রধান শত্রু অকাল বন্যা আর বৈরী আবহাওয়া। আকাশে মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে কৃষকের। দিরাইয়ের বরাম ও চ্যাপ্টির হাওরের কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাদের চিন্তায় ফেলেছে। ধান পেকে যাওয়ায় দ্রুত ঘরে তোলা জরুরি, কিন্তু শ্রমিকের অভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

Manual2 Ad Code

 

​বড় ও মাঝারি চাষিরা পড়েছেন মহাবিপাকে। বাইরে থেকে আসা পেশাদার ধান কাটা শ্রমিকের (যা স্থানীয়ভাবে ‘দাউতি’ নামে পরিচিত) সংখ্যা এবার তুলনামূলক কম। ফলে স্থানীয় শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অনেকেই আবার ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ ব্যবহারের চেষ্টা করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তার সংখ্যা খুবই নগণ্য।

 

​হাওরবাসীর দাবি, কৃষি বিভাগ যদি দ্রুত ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহ করে এবং বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তবেই হয়তো সোনার ফসল গোলায় তোলা সম্ভব হবে। অন্যথায় শ্রমিকের উচ্চ মজুরি আর বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে অনেক কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Manual4 Ad Code

 

(​সুরমামেইল/হেলাল আহমেদ/এফএ)

Manual2 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code