নবীগঞ্জে ভয়াবহ সংঘর্ষ-বিস্ফোরণ: নিহত ১, আহত শতাধিক, ১৪৪ ধারা

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৫

নবীগঞ্জে ভয়াবহ সংঘর্ষ-বিস্ফোরণ: নিহত ১, আহত শতাধিক, ১৪৪ ধারা

Manual8 Ad Code

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক মানুষ।

 

Manual8 Ad Code

সোমবার (৭ জুলাই) বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। বিকাল ৪টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেন। ১৪৪ ধারা জারির পরও ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে।



সংঘর্ষে শহরের প্রায় শতাধিক দোকান-পাট, উপজেলা শহরের ইউনাইটেড হাসপাতাল, বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরসহ অগ্নি সংযোগ করা হয়। এ সময় বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার পুড়ে গিয়ে নবীগঞ্জ শহরে বিদ্যুহীন হয়ে পড়ে।

নবীগঞ্জে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়েছে কয়েক হাজার মানুষ, ভাংচুর-লুটপাট

এদিকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা মাইকিং করে সবাইকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। না মানায় যৌথবাহিনী ব্যাপক লাটিচার্জ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

 

নিহতের নাম: ফারুক মিয়া (৪৫)। তিনি উপজেলার পুর্ব তিমিরপুর গ্রামের আউয়াল মিয়ার পুত্র।

 

Manual5 Ad Code

আহতদের মধ্যে ২০ জনকে আশংকাজন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

Manual5 Ad Code

নবীগঞ্জে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়েছে কয়েক হাজার মানুষ, ভাংচুর-লুটপাট

জানা গেছে- নবীগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও যুবলীগের সাবেক নেতা আশাইদ আলী আশা ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সেলিম তালুকদারের মধ্যে রেষারেষির জের ধরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেলিম তালুকদারের শালা খসরু মিয়া তালুকদার তার সাথীদের সাথে আশাইদ আলী আশার কথা কাটাকাটি ও মারপিট হয়। এরই জেরে গত চারদিন ধরে উত্তেজনা ও হামলা পাল্টা হামলা চলে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়।

 

সোমবার সকালে আনমনু ও পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের লোকজন পুর্ব ঘোষণা দিয়ে নিজ নিজ এলাকায় পুর্ব প্রস্তুতিমুলক মিটিং করেন। এরপর বিকাল ৩টার দিকে উভয় গ্রামের শত শত মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে শহরের মারামারিটি সাম্প্রদায়িক ধাঙ্গায় রুপ নেয়। নবীগঞ্জ শহরে আশপাশের তিন চারটি মৎস্যজীবি গ্রামের লোকজন এক পক্ষে, পূর্ব তিমিরপুর, পশ্চিম তিমিরপুর ও চরগাঁও গ্রামের নারী পুরুষ দুটি পক্ষ হয়ে কয়েক হাজার মানুষ সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষ চলাকালে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে উভয় পক্ষে শতাধিক নারী পুরুষ আহত হয়েছেন।

নবীগঞ্জে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়েছে কয়েক হাজার মানুষ, ভাংচুর-লুটপাট

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

Manual4 Ad Code

 

তিনি বলেন, হত চারদিন ধরে উপজেলা শহর উত্তপ্ত ছিল; যা সোমবার সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেননি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code