সিলেট ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মৃত্যুর তিন বছর পর কবর থেকে এক ব্যক্তির কংকাল উত্তোলন করেছে হবিগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামে নমিন শাহ্ মাজারে বার্ষিক ওরসে গানের মঞ্চে নৃত্য করার সময় গানের আসরে অতিরিক্ত মদ্যপান এবং গাঁজা সেবনে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) লাশ উত্তোলন করা হয়। এসময় কবরে শুধু লাশের কয়েকটি হাড্ডি পাওয়া যায় এবং মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কংকালগুলো ঢাকায় মহাখালীস্থ ফরেনসিক বিভাগের প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারী দুইজনের মৃত্যু হলেও দুই দিন পর অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারী ময়না তদন্ত ছাড়াই তাদের মরদেহ দাফন করা হয়।
মৃতব্যক্তিরা হলেন- ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামের মৃত গেদা মিয়ার পুত্র আবুল কালাম (৪৫) ও একই ইউনিয়নের ঘোলডুবা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ (৪২)।
স্থানীয় সুত্রে জানা য়ায়- নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামে ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারী হযরত নবীন শাহ্ মাজারে (রহঃ) ১৫৬ তম বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওরসকে কেন্দ্র করে মাজারের সামনে নাচ-গানের আসর বসে। এসব আসরে গান গাইতে আসেন বিভিন্ন নারী শিল্পীরা। এতে বিভিন্নস্থান থেকে যুবকসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের ঢল নামে।
উক্ত অনুষ্ঠানে আব্দুল কালাম ও আব্দুল আজিজ নৃত্য করেন। নৃত্যের একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কালাম ও আজিজ। পরে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে এই দুই জনের কোন ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। অভিযোগ উঠে তারা ওইদিন অতিরিক্ত মদ ও গাঁজা সেবন করেন।
এনিয়ে মৃত আবুল কালামের স্বজনদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেয়। তারা দাবি করেন- স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলু মিয়া ওরফে সজলু প্রভাব বিস্তার করে ময়না তদন্ত ছাড়াই তাকে দাফন করেন।
মৃত্যুর দুই বছর পর চলতি বছরের ১২ এপ্রিল মৃত আবুল কালামের ছোট ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ চীফ জুটিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে হবিগঞ্জ পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন। পিবিআই দায়িত্ব গ্রহণের পরই তদন্ত শুরু করে।
মামলায় উল্লেখ করেন, আবুল কালামকে ফজলু মিয়া ওরফে সজলু মেম্বারের ঘনিষ্ট লোক একই গ্রামের জুয়েল মিয়া ও রাশেদ মিয়ার যোগসাজসে ওরসের দিন মাজারের দান বাক্সের কাছে বসা অবস্থায় জুয়েল মিয়া মিষ্টি পানের সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যা করেছে। পরে রাশেদ মিয়ার সাথে সজলু মেম্বার ও জুয়েলের ঝগড়া হলে তিনি গ্রামবাসীর কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। এই ঘটনাটি জানাজানি হলে সুমন মিয়া বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।
এ বিষয়ে বাদী সুমন মিয়া বলেন, আমার ভাইকে বিষ মিশানো পান খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। আসামিরা তৎকালীন আওয়ামী লীগের সরকারের প্রভাব থাকার কারণে তারা জোর করে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করেন এবং আমাদেরকে মামলা করার কোন সুযোগ দেননি।
আবুল কালামের মা সাফিয়া বেগম বলেন, আজকে ৩ বছর পর আমার ছেলের কংকালগুলো কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। আমার তরতাজা ছেলেকে বিষপানে হত্যা করা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নোমান হোসেন বলেন, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামে হযরত নবীন শাহ (রহ:) মাজারে প্রতিবছর ওরসের নামে অশ্লীল নাচ-গান ও মাদকের আসর বসে। এতে বিভিন্নস্থান থেকে আসা মানুষ মদ ও গাঁজা সেবন করে। আমি বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায়ও উপস্থাপন করেছি, কিন্তু কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশনায় আবুল কালামের লাশ উত্তোলন করেছি। দীর্ঘদিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করায় কবরে শুধু তার কংকাল পাওয়া গেছে। এগুলো ডিএনও পরীক্ষার জন্য ঢাকায় ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
পিবিআই মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহবুব জানান, আমরা ৪ মাস যাবৎ মামলা তদন্ত করছি। এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ঢাকা মহাখালী ফরেনসিক বিভাগে নমুনা কংকাল পাঠানো হবে। সেখান থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
(সুরমামেইল/এমএএ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি