সিলেট ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২৫
খেলাধুলা ডেস্ক :
২২ বছরের অপেক্ষা যেন এক মুহূর্তে ধুয়ে গেল বিজয়ের উচ্ছ্বাসে! দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে ভারতবধ! হামজা-মোরসালিনদের উচ্ছ্বসিত নৈপুণ্যে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ হোম ম্যাচে বাংলাদেশ পেল স্মরণীয় এক ১-০ গোলের জয়।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ রাতে ম্যাচের প্রথম দিকেই মোরসালিনের দুর্দান্ত গোল দলকে এগিয়ে দেয়, আর সেই গোলই হয়ে ওঠে দুই দশকের অপেক্ষার পর সোনালি মুহূর্তের সিলমোহর! ২০০৩-এর সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি ফিরে এলো ঢাকার মাঠে।
২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়ের পর লম্বা ব্যবধানে আর কখনো নীল জার্সিধারীদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। অবশেষে ২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের লড়াইয়ে সেই স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন হামজা-মোরসালিনরা। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে তৃতীয় রাউন্ডের ফিরতি লেগে বাংলাদেশ ১–০ গোলের দৃষ্টিনন্দন জয়ে মাঠ ছাড়ে।
এই জয়ের সঙ্গে একইসঙ্গে মিলেছে বহুপ্রত্যাশিত স্বস্তি। চলতি বাছাইয়ে প্রথম জয়ের দেখা পাওয়া, আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাঁচ ম্যাচ পর জয়, আর সবচেয়ে বড় কথা, ভারতের বিপক্ষে আবার মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়ার আনন্দ।
ম্যাচের শুরুটা তেমন সুবিধার ছিল না বাংলাদেশের জন্য। খেলায় ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা সময় নেয় লাল-সবুজরা। বিপরীতে ভারত শুরু থেকেই কয়েকবার বক্সে ঢুকে চাপ সৃষ্টি করে। তবে গোলের মুখ দেখাতে পারেনি তারা।
১১ মিনিটে এল ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে রাকিব হোসেনকে বল বাড়িয়ে সামনে ছুটলেন তরুণ মিডফিল্ডার শেখ মোরসালিন। রাকিবের আড়াআড়ি ক্রসে ফিরে পাওয়া পাসে মোরসালিন পা ছুঁইয়ে বল পাঠান গোলকিপার গুরপ্রিত সিং সান্ধুর দুই পায়ের ফাঁক গলে, এমন সূক্ষ্মতায় যেন সময় থমকে যায় স্টেডিয়ামের। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে, শিহরণ ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিজুড়ে।
লিড পাওয়ার পর ম্যাচের গতি আরও তীব্র হয়। ২০ মিনিটে গোলকিপার মিতুল মারমারের বড় ভুলে প্রায় সমতায় ফিরতে বসেছিল ভারত। তবে রক্ষাকবচ হয়ে উপস্থিত হন হামজা চৌধুরী। প্রতিপক্ষের বিপজ্জনক ক্রস তিনি মাথা দিয়ে পরিষ্কার করে দলকে বাঁচিয়ে দেন নিশ্চিত বিপদ থেকে।
৩৪ মিনিটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। বাংলাদেশের তপু বর্মণ ও ভারতের বিক্রমের ধাক্কাধাক্কিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে দুই দলের খেলোয়াড়রাই জড়িয়ে পড়েন হাতাহাতির মতো ঘটনায়। শেষ পর্যন্ত রেফারি তপু ও বিক্রমকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে শান্ত করেন পরিস্থিতি।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ১–০ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতি থেকে ফিরে ভারত বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে। দুইবার গোল তৈরির মতো পরিস্থিতি তৈরি করলেও দৃঢ় রক্ষণভাগ ও মিতুলের নিয়ন্ত্রণে সেসব গলে রূপ নেনি। একের পর এক আক্রমণ সামলে বাংলাদেশ ধরে রাখে নিজেদের আত্মবিশ্বাস।
৭৮ মিনিটে তপু বর্মণের নেওয়া দূরপাল্লার শট ভারতের গোলরক্ষক ধরে ফেললে লিড বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। ৮৩ মিনিটে ভারতের ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলেও রেফারি পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন।
শেষ কয়েক মিনিট ছিল পরীক্ষার। বাংলাদেশ বারবার শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়ার বেদনা ভোগ করেছে অতীতে। কিন্তু এবার দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ আর মানসিক শক্তিতে দল রক্ষা করেছে নিজেদের লিড। দাঁতে দাঁত চেপে রোমাঞ্চকর সেই সময়টুকু পেরিয়ে এসেছে তারা।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়াম আর গ্যালারি ডুবে যায় উৎসবে। ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রোকনুজ্জামান কাঞ্চন ও মতিউর রহমান মুন্নার সেই ঐতিহাসিক ২-১ জয়ের স্মৃতি যেন আবারও ফিরে আসে। ২২ বছর পর আবার ভারতবধ, মোরসালিন যেন নতুন গল্প লেখেন লাল-সবুজ ফুটবলের!
বাছাইপর্বে টানা ব্যর্থতার হতাশা থেকে বেরিয়ে এল দল। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও পেলেন বহুদিনের না পাওয়া স্বস্তি! যদিও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি, বেঞ্চ থেকে দেখলেন একটি মর্যাদার জয়!
(সুরমামেইল/এএইচএম)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি