সিলেটে পুরনো কূপে নতুন করে মিলল গ্যাস

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২৫

সিলেটে পুরনো কূপে নতুন করে মিলল গ্যাস

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ডের ১ নম্বর কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।

 

সিলেট গ্যাসফিল্ডের অধীনে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডে রয়েছে মোট ৯টি কূপ। এরমধ্যে ১ নম্বর কূপে ১৯৬১ সালে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। একবার বিরতি দিয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলিত হয়েছে।

 

Manual5 Ad Code

২০২৩ সাল থেকে দেশের পরনো কূপগুলোতে নতুন করে ওয়ার্কওভার শুরু হয়। এরমধ্যে সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধীন ১৪টি কূপের ওয়ার্কওভার চলছে। কৈলাশটিলা-১ নম্বরসহ ইতোমধ্যে ৭টি কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে। ৭টিতেই গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে।

 

কৈলাশটিলার-১ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভার শেষে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে। এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। এসব কাজ শেষে আজকালের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেবেন।

 

সিলেট গ্যাসফিল্ড সূত্রে জানা গেছে, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে এ গ্যাস যুক্ত হতে পারে।

 

এই সূত্র জানায়, প্রায় ৪ মাস আগে কৈলাশটিলায়-১ নম্বর কূপে ওয়ার্কওভার শুরু করে বাপেক্স। ওয়ার্কওভারকালে প্রায় ২২ হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।

Manual3 Ad Code

 

এরআগে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধীন রশিদপুর গ্যাসফিল্ডের ৩ নম্বর পুরোনো কূপ থেকে নতুন করে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এরফলে সিলেটের কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

 

এরআগে গত বছরের ২২ অক্টোবর সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ৭ নম্বর কূপে খননকাজ শেষে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। হরিপুরে ৭ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ৭ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। কূপের ১ হাজার ২০০ মিটার গভীরতায় এ গ্যাস পাওয়া গেছে।

 

তারও আগে ওই বছরের ২৪ মে খননকাজ শেষে সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাস ক্ষেত্রের ৮ নম্বর কূপে দৈনিক ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার যায়। কূপের ৩,৪৪০ থেকে ৫৫ হাজার ফুট গভীরতায় গ্যাস পাওয়া যায়।

 

জানা যায়, সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের আওতাধীন কূপগুলোতে চলমান আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হবে। খনন চলমান থাকা অন্য সকল কূপে আশানুরূপ গ্যাস পাওয়া গেলে শুধুমাত্র এই কোম্পানি থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ২৫০ মিলিয়ন গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েকটি কূপ অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভারের কাজ চলছে।

 

এরআগে, গত বছরের ২৭ জানুয়ারি সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধীন রশিদপুরের ২ নম্বর কূপে গ্যাসের নতুন স্তরের সন্ধান মেলে, যার পরিমাণ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট।

 

তারও আগে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর দেশের সবচেয়ে পুরানো গ্যাসক্ষেত্র হরিপুরের ১০ নম্বর কূপে গ্যাসের সন্ধান মেলে। খনন কাজ শেষে ওইদিন গ্যাস প্রাপ্তির তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)।

 

আর ওই বছরের ২২ নভেম্বর সিলেটের কৈলাশটিলায় পরিত্যক্ত ২ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এখান থেকে দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

Manual6 Ad Code

 

সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৫৫ সালে। এরপর আবিষ্কার হতে থাকে একের পর এক গ্যাসক্ষেত্র। বর্তমানে এসজিএফএল-এর আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। সেগুলো হলো- হরিপুর গ্যাসফিল্ড, রশীদপুর গ্যাসফিল্ড, ছাতক গ্যাসফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড। এর মধ্যে ছাতক গ্যাসফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।

 

(সুরমামেইল/এমকে)

Manual7 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code